যন্তর মন্তরে নিষেধাজ্ঞা উড়িয়ে ফের গ্রেফতার আন্দোলনকারীরা! অন্যদিকে রাজাবাজার থেকে পার্কসার্কাস মহারণে নামছেন মমতা

শারদোৎসবের রঙিন আলোর রোশনাইয়ের মাঝেই রাজনৈতিক পারদ চড়েছে চরমে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে উত্তাল জাতীয় রাজধানী দিল্লি থেকে শুরু করে খাস কলকাতা—সর্বত্রই এখন ঘনাচ্ছে রাজনৈতিক সংঘাতের কালো মেঘ। একদিকে দিল্লি পুলিশ যন্তর মন্তরে সমস্ত ধরনের বিক্ষোভ ও অবস্থান-বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করার কড়া নির্দেশিকা জারি করায় পরিস্থিতি পুরোপুরি অগ্নিগর্ভ। এই নিষেধাজ্ঞাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে আজ সকালেই যন্তর মন্তরে ঢুকে বিক্ষোভ দেখানোর চেষ্টা করেন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-র নেতা আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাস। পুলিশ তৎক্ষণাৎ তাঁদের জোরপূর্বক আটক করে প্রিজন ভ্যানে তোলে। প্রশাসনের এই কঠোর পদক্ষেপ এবং আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার অনমনীয় হুঁশিয়ারিতে দিল্লির রাজনৈতিক বায়ুমণ্ডল চরম আকার ধারণ করেছে।

অন্যদিকে, এই একই ইস্যুতে আজ মহানগর কলকাতায় সুর চড়াচ্ছে শাসকদল। জ্ঞানেশ কুমার ও নির্বাচন কমিশনের বিতর্কিত সিদ্ধান্ত এবং ভোটার তালিকা সংশোধন সংক্রান্ত বিভিন্ন অভিযোগের প্রতিবাদে আজ কলকাতার বুকে এক বিরাট প্রতিবাদের ডাক দিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী, রাজাবাজার থেকে পার্কসার্কাস পর্যন্ত এক বিশাল মিছিল হওয়ার কথা রয়েছে। তবে উৎসবের মরশুমে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি ও আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রশাসন ও দলের অন্দরে কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্টভাবে নির্দেশ দিয়েছেন যে, মিছিল যেখানে শুরু হবে, নির্দিষ্ট সীমার মধ্যেই তা সীমাবদ্ধ রাখতে হবে এবং পুজো ও আনন্দের এই সময়ে কোনো রকম বিশৃঙ্খলা বা অশান্তি বরদাস্ত করা হবে না। পুলিশের পক্ষ থেকেও গোটা রুট জুড়ে নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হয়েছে।

এরই মাঝে বাংলার রাজনৈতিক মঞ্চে অন্য ছবি ধরা পড়েছে। একদিকে যখন রাজপথ উত্তপ্ত, তখন অন্যদিকে সাধারণ মানুষের উৎসবের আনন্দকে দ্বিগুণ করতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরা। গতকাল গভীর রাত পর্যন্ত বিভিন্ন পুজো মণ্ডপ ঘুরে দেখার পর, আজও রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে একাধিক দুর্গাপুজোর উদ্বোধনে ব্যস্ত রয়েছেন বিজেপি নেতা তথা বিরোধী শিবিরের হেভিওয়েট মুখ শুভেন্দু অধিকারী। একদিকে উৎসবের মেজাজ আর অন্যদিকে দিল্লি থেকে কলকাতা জুড়ে রাজনৈতিক তরজা—সবমিলিয়ে পুজোর ঠিক প্রাক্কালে আজকের এই বহুমুখী ঘটনায় সরগরম রয়েছে গোটা দেশের জাতীয় ও রাজ্য রাজনীতি।