যন্তর মন্তর বাদ, এবার প্রতিবাদের নতুন ঠিকানা! বুকিংয়ের আকাশছোঁয়া দাম ও শর্ত শুনলে আঁতকে উঠবেন

দিল্লিতে প্রতিবাদ ও জনসভার দীর্ঘদিনের পরিচিত কেন্দ্র ‘যন্তর মন্তর’-কে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে নতুন প্রতিবাদস্থল হিসেবে রামলীলা ময়দানকে বেছে নিয়েছে প্রশাসন। কিন্তু এই নতুন ঠিকানায় আন্দোলন করতে নামলে আন্দোলনকারীদের পকেটে যে মারাত্মক টান পড়বে, তা পরিষ্কার হয়ে গিয়েছে। প্রায় ৫০ হাজার মানুষের জমায়েতের জন্য উপযুক্ত এই ঐতিহাসিক রামলীলা ময়দান এক দিনের জন্য বুক করতে খরচ পড়বে ১ লক্ষ ২১ হাজার টাকা। যার মধ্যে রয়েছে ৫০ হাজার টাকার মূল ভাড়া, ৫৫ হাজার টাকার সিকিউরিটি ডিপোজিট এবং প্রযোজ্য কর।
দিল্লি পুরনিগমের (MCD) উদ্যান বিভাগের মাধ্যমে এই বুকিং করতে হয় এবং এর জন্য দিল্লি পুলিশের এনওসি বা ছাড়পত্র নেওয়াও বাধ্যতামূলক। পৌর আধিকারিকদের দাবি, মাঠের একটি ক্ষুদ্র অংশে বিনা খরচে মাত্র ১৫০ জনের বসার মতো জায়গা দেওয়া যেতে পারে, তবে বড় আকারের কোনো রাজনৈতিক বা সামাজিক আন্দোলন করতে গেলে এই বিপুল আর্থিক বোঝা বহন করতেই হবে। অথচ এর আগে যন্তর মন্তরে প্রতিবাদের জন্য এই ধরনের কোনো ভারী খরচ করতে হতো না। শুধু আর্থিক খরচের বহরই নয়, আগামী আড়াই মাসে মাঠ বুক করার জন্য ফাঁকা রয়েছে মাত্র তিন দিন—আগামী ২৯, ৩০ ও ৩১ ডিসেম্বর। ফলে এত কড়াকড়ি এবং সীমাবদ্ধতার মাঝে প্রতিবাদ সংগঠিত করা কতটা সহজ হবে, তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠেছে।
রামলীলা ময়দানকে নতুন প্রতিবাদস্থল হিসেবে বেছে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে তীব্র আপত্তি জানিয়েছে আম আদমি পার্টি (আপ)। আপের দিল্লি সভাপতি সৌরভ ভরদ্বাজ এক্স হ্যান্ডলে পোস্ট করে প্রশ্ন তুলেছেন যে, মাঠটি ইতিমধ্যেই বিভিন্ন উৎসব ও অনুষ্ঠান এবং রামলীলার জন্য বুক করা রয়েছে, সেখানে কীভাবে বিক্ষোভের অনুমতি দেওয়া হতে পারে? প্রসঙ্গত, ১৯৩০ সাল পর্যন্ত যে জায়গাটি পুকুর ছিল, পরবর্তীকালে তা ভরাট করে রামলীলা ও রাজনৈতিক সভা-সমাবেশের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হয়। অতীতে এখানে বহু ঐতিহাসিক রাজনৈতিক সমাবেশ ও ঐতিহাসিক শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানও অনুষ্ঠিত হয়েছে। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে ব্যস্ত বাণিজ্যিক এলাকা, কাছাকাছি তিনটি হাসপাতাল এবং পুরনিগম সদর দফতরের কারণে এই এলাকায় বড় জমায়েত হলে তীব্র যানজটের আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। সব মিলিয়ে, দিল্লির নতুন প্রতিবাদস্থল ঘিরে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক চাপানউতোর তুঙ্গে উঠেছে।