রাজধানী জুড়ে রাজনৈতিক তরজা! জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবিতে উত্তাল দিল্লি, কড়া পদক্ষেপে আটক বিক্ষোভকারীরা

রাজধানী দিল্লি থেকে শুরু করে তিলোত্তমা কলকাতা—উভয় অঞ্চলেই এই মুহূর্তে রাজনৈতিক পারদ চড়ে রয়েছে তুঙ্গে। একদিকে যখন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লির বুকে তীব্র আন্দোলন ও বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে, তখন তার আঁচ এসে পড়েছে বাংলাতেও। মঙ্গলবার সকালের শুরুতেই দিল্লি পুলিশের হাতে আটক হয়েছেন ককরোচ জনতা পার্টির শীর্ষ নেতা সৌরভ দাস এবং আশুতোষ রাঙ্কারা। একই সঙ্গে কেন্দ্রের তরফে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, ঐতিহাসিক যন্তর মন্তরে কোনো ধরনের অবস্থান বা বিক্ষোভ কর্মসূচি চালানো যাবে না। এই কড়া বিধিনিষেধকে উপেক্ষা করে বারবার আন্দোলনকারীরা জমায়েত করার চেষ্টা করায় দিল্লি পুলিশ ও আধা সেনার সঙ্গে ব্যাপক ধস্তাধস্তি ও আটকের ঘটনা ঘটে চলেছে।
অন্যদিকে, রাজধানী দিল্লির এই উত্তাল পরিস্থিতির মাঝেই কলকাতার বুকে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এক বিরাট মিছিলের ডাক দেওয়া হয়েছে। জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবিতে আজ মহানগরের রাজাবাজার থেকে পার্কসার্কাস পর্যন্ত এই প্রতিবাদ মিছিল হওয়ার কথা রয়েছে। তবে উৎসবের মরসুমে সাধারণ মানুষের সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে পুলিশ প্রশাসনকে অত্যন্ত কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, মিছিল যেখান থেকে শুরু হবে, ঠিক সেই নির্দিষ্ট স্থানেই তা থামিয়ে দিতে হবে এবং দুর্গাপুজোর আনন্দমুখর এই দিনগুলিতে কোনো রকম অশান্তি বা বিশৃঙ্খলা বরদাস্ত করা হবে না। আজ দিনভর এই রাজনৈতিক কর্মসূচির দিকেই সমস্ত মহলের নজর আটকে রয়েছে।
এরই সমান্তরালে অন্যদিকে চলছে শারদোৎসবের আনন্দ ও পুজোর উদ্বোধনের পালা। রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী মহালয়ার রেশ কাটতেই ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন শহর ও জেলার একের পর এক পুজো মণ্ডপ উদ্বোধনে। গতকাল গভীর রাত পর্যন্ত বিভিন্ন মণ্ডপ ঘুরে ফিতে কাটার পর, আজও তাঁর ব্যস্ত সূচিতে রয়েছে একাধিক হাইপ্রোফাইল পুজোর উদ্বোধন। একদিকে রাজনৈতিক সংঘাত, বিক্ষোভ ও মিছিলের উত্তেজনা এবং অন্যদিকে শারদীয় উৎসবের রঙিন আলোয় সেজে ওঠা মণ্ডপ—সব মিলিয়ে পুজোর প্রাক্কালে বাংলা ও জাতীয় রাজনীতির পটচিত্রটি এই মুহূর্তে বেশ বৈচিত্র্যময় ও উত্তেজনায় ভরপুর।