বাজেট অধিবেশনের ১১তম দিনে লোকসভা এক ঐতিহাসিক বাদানুবাদের সাক্ষী থাকল। মার্শাল আর্ট ‘জুজুৎসু’-র কৌশল ব্যাখ্যা করে নিজের বক্তব্য শুরু করেন বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। তাঁর দাবি, বর্তমান বিশ্ব এক ভয়ঙ্কর যুদ্ধের যুগে প্রবেশ করেছে, যার প্রমাণ গাজা এবং ইজরায়েলে স্পষ্ট। কিন্তু এই বদলে যাওয়া পৃথিবীতে ভারত তার সবচেয়ে বড় সম্পদ ‘ডেটা’ বা তথ্যকে বিদেশের হাতে তুলে দিচ্ছে বলে মারাত্মক অভিযোগ আনেন তিনি।
রাহুল গান্ধী সরাসরি আক্রমণ শানিয়ে বলেন, “প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দাবি করেন ‘যুদ্ধের যুগ শেষ’, কিন্তু তাঁর এই দাবি সম্পূর্ণ ভুল। বিশ্বজুড়ে অস্থিরতা বাড়ছে এবং তথ্যই এখন সবচেয়ে বড় সম্পদে পরিণত হয়েছে, যা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (AI) জ্বালানী। অথচ ভারতের এই অমূল্য তথ্য সুরক্ষা নিয়ে বাজেটে কোনও দিশা নেই।”
সবচেয়ে বড় বোমাটি রাহুল ফাটান ‘এপস্টিন ফাইল’ এবং শিল্পপতিদের নিয়ে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “কেন অনিল আম্বানি এখনও জেলে নেই? তাঁর নাম এপস্টিন ফাইলে রয়েছে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরীই তাঁকে এপস্টিনের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন।” এই মন্তব্যের পরই ট্রেজারি বেঞ্চে হইচই শুরু হয়। স্পিকার জগদম্বিকা পাল বারবার রাহুলকে বাধা দিলেও তিনি থামেননি।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক নীতি এবং ভারতের সঙ্গে হওয়া বাণিজ্য চুক্তিকে ‘দেশ বিক্রির’ সঙ্গে তুলনা করেন রাহুল। তিনি বলেন, “আমেরিকার সঙ্গে চুক্তিতে ভারতীয় পণ্যের শুল্ক ৩% থেকে বাড়িয়ে ১৮% করা হয়েছে, অথচ মার্কিন আমদানিতে শুল্ক শূন্য! ভারত কি এখন আমেরিকার কাছে আত্মসমর্পণ করেছে? আমেরিকা ঠিক করে দেবে আমরা কার থেকে তেল কিনব? প্রধানমন্ত্রী কি ভারতমাতাকে বিক্রি করতে লজ্জা পেলেন না?” রাহুলের অভিযোগ, ডলারের আধিপত্য বজায় রাখতে আমেরিকা ভারতের তথ্য বা ডেটা ব্যবহার করতে চায়, আর সরকার সেই মরণফাঁদেই পা দিচ্ছে। কৃষকদের স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে এই চুক্তি করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।