দেরি হলেই পকেট ভারী! অষ্টম বেতন কমিশন কার্যকর হতে কত মাস লাগবে? জানুন হিসাব

কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত অষ্টম বেতন কমিশন নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে। বর্তমানে কর্মী সংগঠন ও অংশীদারদের সঙ্গে ম্যারাথন আলোচনা চালাচ্ছে কমিশন। সরকারের তরফে কমিশনকে রিপোর্ট জমা দেওয়ার জন্য ১৮ মাস সময় দেওয়া হয়েছে। ফলে নতুন বেতন কাঠামো এবং পে-ম্যাট্রিক্স কার্যকর হতে কিছুটা সময় লাগলেও, জল্পনা তৈরি হয়েছে যে যত দেরি হবে, বকেয়া বা অ্যারিয়ারের অঙ্ক ততটাই স্ফীত হবে। সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী, নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর করার সম্ভাব্য তারিখ ১ জানুয়ারি ২০২৬ ধরা হলেও, প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে দেরি হলে কর্মীরা ওই নির্দিষ্ট তারিখ থেকে পে-ডিফারেন্স বা বকেয়া পাওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের প্রাক্কলন অনুযায়ী, ধরা যাক কোনো কর্মীর বর্তমান মূল বেতন বা বেসিক স্যালারি ৫০,০০০ টাকা। যদি ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাস থেকে ৬০ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ (DA) ধরা হয়, তবে বেসিক ও ডিএ মিলিয়ে মাসিক মোট পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৮০,০০০ টাকা। এবার যদি অষ্টম বেতন কমিশনের সুপারিশে ২.৫৭ ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর কার্যকর করা হয়, তবে নতুন বেসিক হবে ১,২৮,৫০০ টাকা। বর্তমান কাঠামোর মোট বেতন এবং সংশোধিত নতুন বেসিকের মধ্যে মাসিক ফারাক দাঁড়াতে পারে প্রায় ৪৮,৫০০ টাকার কাছাকাছি।
এই সম্ভাব্য হিসাব কষে দেখা যাচ্ছে, যদি ১২ মাসের অ্যারিয়ার হিসাব করা হয়, তবে তা প্রায় ৫.৮২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। অন্যদিকে, যদি প্রক্রিয়া শেষ হতে ১৮ মাস সময় লেগে যায়, তবে বকেয়ার অঙ্ক একলাফে বেড়ে দাঁড়াতে পারে প্রায় ৮.৭৩ লক্ষ টাকা পর্যন্ত। পাশাপাশি, যদি ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর বাড়িয়ে ২.৮৬ ধরা হয়, তবে ৫০,০০০ টাকা বেসিকের ক্ষেত্রে নতুন বেসিক হবে ১,৪৩,০০০ টাকা। সেই অনুযায়ী মাসিক ফারাক দাঁড়াবে প্রায় ৬৩,০০০ টাকা। সেক্ষেত্রে ১২ মাসের বকেয়া হতে পারে ৭.৫৬ লক্ষ টাকা এবং ১৮ মাসের ক্ষেত্রে তা ১১.৩৪ লক্ষ টাকা পর্যন্ত আকাশছোঁয়া হতে পারে।
তবে আর্থিক বিশেষজ্ঞদের মতে, সোশ্যাল মিডিয়ায় অ্যারিয়ার নিয়ে যা অঙ্ক কষা হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ নির্দিষ্ট অনুমানের উপর ভিত্তি করে তৈরি। নতুন কাঠামোয় মহার্ঘ ভাতা বা অন্যান্য ভাতার হিসাব কীভাবে সংযোজিত হবে, তার ওপর ভিত্তি করে প্রকৃত অ্যারিয়ারের পরিমাণ অনেকটাই পরিবর্তিত হতে পারে। ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে গঠিত এই কমিশন বর্তমানে বিভিন্ন পে-ম্যাট্রিক্সের রূপরেখা ও অংশীদারদের মতামত পর্যালোচনা করছে। ফলে সরকারি অনুমোদন ও চূড়ান্ত বিজ্ঞপ্তি না আসা পর্যন্ত কোনো নির্দিষ্ট অঙ্ককে শতভাগ নিশ্চিত বলে ধরে নেওয়া বোকামি হবে। তবে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের এই মেগা আপডেটে জল্পনা ও কৌতূহল দুটোই চরমে পৌঁছেছে।