সময়টা ১৮৭৭-১৮৭৮ সাল। এক ভয়ংকর খরা আর মহামারীতে তছনছ হয়ে গিয়েছিল পৃথিবী। মৃত্যু হয়েছিল তৎকালীন বিশ্বের প্রায় ৪ শতাংশ মানুষের। প্রায় দেড়শো বছর পর সেই একই অশনি সংকেত দেখছেন বিজ্ঞানীরা। ২০২৬ সালে কি ফের ফিরে আসতে চলেছে সেই অভিশপ্ত ‘মেগা এল নিনো’ (Mega El Nino)? জলবায়ু পরিবর্তনের এই চরম সতর্কবার্তা এখন ঘুম কেড়েছে বিশেষজ্ঞদের।
কী এই ‘মেগা এল নিনো’? সাধারণত প্রশান্ত মহাসাগরের মাঝ বরাবর সমুদ্রের জলস্তর অস্বাভাবিকভাবে গরম হয়ে উঠলে তাকে ‘এল নিনো’ বলা হয়। তবে যখন এই উষ্ণতা স্বাভাবিকের চেয়ে ২.৫ ডিগ্রি বা তার বেশি বেড়ে যায়, তখন তাকে ‘মেগা’ বা ‘সুপার এল নিনো’ বলা হয়। আবহাওয়াবিদ রায়ান মাউ-এর মতে, ২০২৬-২৭ সালের এই এল নিনো রেকর্ড ভেঙে ১৮৭৭ সালের ভয়াবহতাকে ছুঁয়ে ফেলতে পারে।
দেড়শো বছর আগের সেই বীভৎস ইতিহাস ১৮৭৬ থেকে ১৮৭৮ সালের মধ্যে শক্তিশালী এল নিনোর প্রভাবে ভারত, চীন, আফ্রিকা এবং দক্ষিণ আমেরিকায় ব্যাপক খরা দেখা দিয়েছিল। ভারতের ইতিহাসে এটি ‘মাদ্রাজ দুর্ভিক্ষ’ নামেও পরিচিত। সেই সময়:
মৃত্যুমিছিল: বিশ্বজুড়ে প্রায় ৫ কোটি মানুষ মারা গিয়েছিল।
জনসংখ্যার হ্রাস: তৎকালীন পৃথিবীর মোট জনসংখ্যার প্রায় ৪ শতাংশ এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে প্রাণ হারায়।
ফ্লোরেন্স নাইটিঙ্গেলের মন্তব্য: ভারতের সেই ভয়াবহতা দেখে তিনি বলেছিলেন, “এমন মানবিক কষ্ট এবং ধ্বংসের রেকর্ড পৃথিবী আগে কখনও দেখেনি।”
২০২৬-এ কতটা বিপদ? বিজ্ঞানীরা বলছেন, বর্তমানে ‘গ্লোবাল ওয়ার্মিং’-এর ফলে পৃথিবীর উষ্ণতা এমনিতেই বাড়তি। এর ওপর যদি ‘মেগা এল নিনো’ যুক্ত হয়, তবে:
চরম দাবদাহ ও খরা: ভারতসহ দক্ষিণ এশিয়ায় বর্ষা অনিয়মিত হতে পারে এবং ফসল উৎপাদন ব্যাহত হতে পারে।
খাদ্য সংকট: কৃষি মার খেলে বিশ্বজুড়ে চরম খাদ্য সংকটের আশঙ্কা রয়েছে।
প্রলয়ঙ্কারী বন্যা: দক্ষিণ আমেরিকা এবং আমেরিকার কিছু অংশে আবার দেখা দিতে পারে ভয়াবহ বন্যা।
সতর্কতা ও প্রস্তুতি বর্তমানে আবহাওয়া বিজ্ঞানীরা এবং নাসা (NASA) প্রশান্ত মহাসাগরের তাপমাত্রার ওপর কড়া নজর রাখছে। যদিও এখনই নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয় যে ২০২৬ সালের এল নিনো কতটা মারাত্মক হবে, তবে যে সংকেত মিলছে তাতে ভারতসহ উন্নয়নশীল দেশগুলোকে আগেভাগেই কৃষি ও জলসম্পদ নিয়ে পরিকল্পনা করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
প্রকৃতির এই রুদ্রমূর্তির সামনে মানুষ কি পারবে নিজেকে রক্ষা করতে? উত্তর দেবে সময়।





