নির্বাচন মানেই উৎসব, আর নির্বাচন মানেই দেওয়াল লিখন থেকে মাইকের গর্জন। কিন্তু এই রাজনৈতিক ডামাডোলের মাঝে আমরা কি অজান্তেই নিজেদের বিপদ ডেকে আনছি? নির্বাচন কমিশন ‘ইকো-ফ্রেন্ডলি’ বা পরিবেশবান্ধব ভোটের নির্দেশিকা দিলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন কার্যত শূন্য। ফ্লেক্স, ব্যানার আর বিষাক্ত রঙের দাপটে ত্রাহি ত্রাহি দশা পরিবেশের।
কলকাতার বাতাসে বিষ! AQI দিচ্ছে বিপদের সংকেত মার্চের শেষ আর এপ্রিলের শুরুতে কলকাতার বায়ুসূচক বা AQI রিপোর্ট উদ্বেগজনক। বাতাসের মান এখন ‘Unhealthy’ থেকে ‘Poor’ (১০৯-১৬১) ক্যাটাগরিতে ঘোরাফেরা করছে। ভোটের প্রচারে অতিরিক্ত গাড়ির ব্যবহার এবং যত্রতত্র প্লাস্টিক ফেলার কারণে দূষণ আরও বাড়ছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, প্রার্থীদের নির্বাচনী ইশতেহারে কি এই জলবায়ু পরিবর্তনের কোনো জায়গা আছে?
দেওয়াল লিখনে বিষাক্ত পারদ! পরিবেশবিদদের চরম হুঁশিয়ারি দেওয়াল লিখনে যে রং ব্যবহার করা হচ্ছে, তাতে থাকছে পারদের মতো ভারী ও বিষাক্ত ধাতব পদার্থ। পরিবেশবিদ স্বাতী নন্দী এই বিষয়ে তীব্র আপত্তি জানিয়ে বলেন, “জনসংযোগ হচ্ছে ঠিকই, কিন্তু জনসচেতনতা নেই। বৃষ্টির জলে এই বিষাক্ত রং ধুয়ে মাটি ও নদীতে মিশছে, যা দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতি করছে। AI-এর যুগে ডিজিটাল ক্যাম্পেনিং বাড়ানো উচিত যাতে ফ্লেক্স-ব্যানারের ব্যবহার কমে।”
প্রচার যখন জনস্বাস্থ্যের শত্রু একজন প্রার্থী প্রচারে ৪০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত খরচ করতে পারেন। তবুও পরিবেশবান্ধব রং বা পচনশীল পোস্টার ব্যবহারে অনীহা স্পষ্ট। যত্রতত্র প্লাস্টিক বর্জ্য এবং অনিয়ন্ত্রিত শব্দদূষণ জনস্বাস্থ্যকে চরম ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে। পরিবেশবিদদের মতে, আমরা ‘ক্লাইমেট ইমারজেন্সি’র দিকে এগোচ্ছি, অথচ জনপ্রতিনিধিরা পরিবেশ নিয়ে নিশ্চুপ।
ব্যতিক্রমী উদাহরণ: টালিগঞ্জের ‘গ্রিন অ্যাম্বাসাডার’ এই অন্ধকারেই আশার আলো দেখাচ্ছেন টালিগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রের সিপিআইএম (CPIM) প্রার্থী পার্থপ্রতিম বিশ্বাস। প্রচারের ফাঁকেই তিনি ভোটারদের সতর্ক করছেন জলাজমি ভরাট এবং ভূগর্ভস্থ জলের আর্সেনিক বিপদ নিয়ে। পরিবেশ নিয়ে তাঁর এই সচেতনতার জন্য একটি ম্যানেজমেন্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তাঁকে নির্বাচনের ‘গ্রিন অ্যাম্বাসাডার’ হিসেবে সম্মানিত করেছে।
ভোটের লড়াইয়ে জয়-পরাজয় থাকবেই, কিন্তু পরিবেশের এই অপূরণীয় ক্ষতি কি আদৌ পূরণ করা সম্ভব? প্রার্থীদের গালভরা প্রতিশ্রুতির ভিড়ে পরিবেশ রক্ষা কবে অগ্রাধিকার পাবে, সেই প্রশ্নই এখন বড় হয়ে দেখা দিচ্ছে।





