দেওবন্দের কড়া নির্দেশ! কানওয়ার যাত্রা চলাকালীন শিক্ষার্থীদের জন্য জারি হলো বিশেষ অ্যাডভাইজরি

উত্তর প্রদেশের সাহারানপুরের ঐতিহাসিক ইসলামী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দারুল উলুম দেওবন্দের ছাত্রছাত্রীদের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও বিশেষ পরামর্শিকা বা অ্যাডভাইজরি জারি করা হয়েছে। পবিত্র শ্রাবণ মাসে আয়োজিত ঐতিহ্যবাহী কানওয়ার যাত্রাকে কেন্দ্র করে এই নির্দেশিকা দেওয়া হয়েছে। নির্দেশিকায় স্পষ্ট করে বলা হয়েছে যে, কানওয়ার যাত্রার রুট, ব্যস্ততম জিটি রোড এবং জনবহুল এলাকাগুলোতে শিক্ষার্থীদের অপ্রয়োজনীয় ঘোরাঘুরি বা আড্ডা সম্পূর্ণভাবে এড়িয়ে চলতে হবে। সকল ছাত্রছাত্রীকে কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, একান্ত জরুরি প্রয়োজন ছাড়া তাঁরা যেন কোনো অবস্থাতেই ক্যাম্পাসের বাইরে না যান।
পাশাপাশি, অনিবার্য কোনো কারণে বাইরে যেতে হলে শুধুমাত্র সংরক্ষিত রেল কোচে যাতায়াত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, সবসময় নিজেদের সাথে দারুল উলুমের বৈধ পরিচয়পত্র বা আইডেন্টিটি কার্ড রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। বুধবার সন্ধ্যায় প্রকাশিত এক লিখিত নির্দেশিকায় হোস্টেল ইনচার্জ মাওলানা আশরাফ আব্বাস জানান যে, বার্ষিক হজ ও কানওয়ার যাত্রার বর্তমান সময়ে শিক্ষার্থীদের পূর্ণাঙ্গ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা বজায় রাখতেই এই সতর্কতামূলক পদক্ষেপগুলো নেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও কড়াকড়ি করে বলা হয়েছে যে, প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে ইস্যুকৃত পরিচয়পত্র প্রদর্শন করা ছাড়া সূর্যাস্তের পর কোনো শিক্ষার্থীকেই ক্যাম্পাসের ভেতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, কানওয়ার যাত্রা চলাকালীন সম্ভাব্য যানজট এবং যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে এই নিয়ম কঠোরভাবে মানতে হবে।
অন্যদিকে, কানওয়ার যাত্রার কারণে গত ৪ থেকে ১২ আগস্ট পর্যন্ত রাজ্যের সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার জন্য গাজিয়াবাদ জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নির্দেশিকা জারি করা হয়েছিল। এই আদেশের পরেই শহরের বেশ কয়েকটি স্বনামধন্য বেসরকারি স্কুল বাধ্য হয়ে অফলাইন পড়াশোনা বন্ধ রেখে অনলাইন ক্লাস শুরু করেছে। জেলা প্রশাসনের এই নির্দেশ প্রাথমিক, উচ্চ প্রাথমিক, মাধ্যমিক, সিবিএসই, আইসিএসই, কারিগরি ও উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছাড়াও সমস্ত মাদ্রাসা এবং সংস্কৃত বোর্ডের স্কুলগুলোর ক্ষেত্রেও সমানভাবে প্রযোজ্য হয়েছে। বেশ কয়েকজন স্কুল প্রধান বা অধ্যক্ষ সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, কানওয়ার যাত্রা উপলক্ষে জেলা জুড়ে প্রধান সড়কগুলোতে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ এবং বহু রাস্তা বন্ধ থাকায় স্কুল বাসগুলো নির্দিষ্ট সময়ে চালাতে মারাত্মক সমস্যা হচ্ছে। সেই কারণেই তারা বাধ্য হয়ে সোমবার থেকে অনলাইন মাধ্যমেই পঠনপাঠন চালু রেখেছেন। তবে স্কুল কর্তৃপক্ষের একাংশের মতে, দীর্ঘ এই ছুটির কারণে এমনিতেই ব্যস্ত ও সংক্ষিপ্ত শিক্ষাবর্ষ আরও ছোট হয়ে যাচ্ছে। গ্রীষ্মকালীন অবকাশ, শীতকালীন ছুটি, উৎসবের দিন এবং অন্যান্য প্রশাসনিক সীমাবদ্ধতার কারণে স্কুলগুলোকে শিক্ষাবর্ষের প্রয়োজনীয় ২২০ কার্যদিবস পূরণ করতে এমনিতেই প্রতিনিয়ত হিমশিম খেতে হয়। শিক্ষাক্ষেত্রের এই অপূরণীয় ক্ষতি কিছুটা হলেও কমাতে তারা ক্লাসগুলোকে অনলাইনে স্থানান্তর করার পথ বেছে নিয়েছেন।