“দেউলিয়া হওয়ার মুখে পাকিস্তান!”-বাঁচতে আবারও IMF-এর পায়ে ধরল শাহবাজ সরকার

পশ্চিম এশিয়ার রণক্ষেত্র আর মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার সরাসরি কোপ পড়ল পাকিস্তানের ভঙ্গুর অর্থনীতিতে। মুদ্রাস্ফীতির মরণকামড় আর আকাশছোঁয়া তেলের দামে যখন দিশেহারা সাধারণ মানুষ, ঠিক তখনই খাদের কিনারা থেকে ঘুরে দাঁড়াতে আন্তর্জাতিক মুদ্রা ভাণ্ডারের (IMF) দ্বারস্থ হল ইসলামাবাদ।

১.২ বিলিয়ন ডলারের ‘লাইফলাইন’ শুক্রবার আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (IMF) ঘোষণা করেছে যে, পাকিস্তানের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনার পর একটি কর্মী-স্তরের চুক্তি (Staff-Level Agreement) স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই চুক্তির ফলে পাকিস্তান সব মিলিয়ে

১.২ বিলিয়ন ডলারের নতুন ঋণ পেতে চলেছে। এর মধ্যে ১ বিলিয়ন ডলার আসবে ‘এক্সটেন্ডেড ফান্ড ফ্যাসিলিটি’ (EFF) থেকে এবং ২১০ মিলিয়ন ডলার আসবে ‘রেজিলিয়েন্স অ্যান্ড সাসটেইনেবিলিটি ফ্যাসিলিটি’ (RSF) থেকে। এই কিস্তিটি অনুমোদিত হলে বর্তমান কর্মসূচির আওতায় পাকিস্তানের পাওয়া মোট ঋণের পরিমাণ দাঁড়াবে ৪.৫ বিলিয়ন ডলারে।

যুদ্ধের আগুনে জ্বলছে অর্থনীতি ইরান ও আমেরিকার মধ্যেকার ছায়াযুদ্ধের জেরে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। এর সবচেয়ে ভয়াবহ প্রভাব পড়েছে পাকিস্তানে।

  • পেট্রোল ও ডিজেলের দাম: দেশটিতে পেট্রোলের দাম লিটার প্রতি ৩২১ পাকিস্তানি টাকা এবং ডিজেলের দাম ৩৩৫ টাকা ছাড়িয়ে গিয়েছে।

  • মুদ্রাস্ফীতির ধাক্কা: মাত্র এক মাসের ব্যবধানে মুদ্রাস্ফীতির হার ৫.৮ শতাংশ থেকে লাফিয়ে ৭ শতাংশে পৌঁছেছে। খাদ্যপণ্য ও বিদ্যুতের দাম সাধারণ মানুষের সাধ্যের বাইরে চলে যাচ্ছে।

২০২৬-এও কি কাটবে অন্ধকার? স্টেট ব্যাঙ্ক অফ পাকিস্তানের রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৬ সালেও মুদ্রাস্ফীতির হার ৫ থেকে ৭ শতাংশের মধ্যেই ঘোরাফেরা করবে। যদিও IMF-এর অনুমান, আগামী বছরে জিডিপি (GDP) বৃদ্ধি হতে পারে প্রায় ৩.৬ শতাংশ। তবে টিকে থাকার লড়াইয়ে ইসলামাবাদকে এখন বিশ্বব্যাঙ্ক আর আইএমএফ-এর শর্ত মেনেই চলতে হবে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy