ভারতের নাগরিকত্ব নিয়ে চরম বিতর্ক! প্রাক্তন রাষ্ট্রদূতের তিক্ত অভিজ্ঞতার পর ইসিআইকে তুলোধনা পি চিদাম্বরমের

প্রবীণ কংগ্রেস নেতা এবং রাজ্যসভা সাংসদ পি. চিদাম্বরম ভারতের নির্বাচন কমিশনের (ইসিআই) বিরুদ্ধে অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি বিস্ফোরক অভিযোগ তুলে দাবি করেছেন যে, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় পুনর্বিবেচনা (এসআইআর)-এর প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন ‘ভোটিং নাগরিক’ বা ভোটাধিকারহীন নাগরিক নামে কার্যত একটি নতুন শ্রেণি তৈরি করছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতে নিযুক্ত ভারতের প্রাক্তন রাষ্ট্রদূত নবদীপ সুরি পঞ্জাবে চলমান এসআইআর প্রক্রিয়া চলাকালীন নিজের নাগরিকত্ব প্রমাণ করতে গিয়ে যে হয়রানির মুখোমুখি হয়েছেন, সেই সংক্রান্ত প্রশ্ন তোলার পরেই মূলত চিদাম্বরমের এই তীব্র আক্রমণাত্মক মন্তব্য সামনে এল।

প্রাক্তন রাষ্ট্রদূত নবদীপ সুরি প্রকাশ্যে তাঁর অভিজ্ঞতা শেয়ার করে প্রশ্ন তুলেছিলেন যে, যিনি মিশর ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করেছেন এবং অস্ট্রেলিয়ায় ভারতের প্রাক্তন হাই কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব সামলেছেন, তিনটি দেশের মতো গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক স্থানে দেশকে প্রতিনিধিত্ব করার পরেও যদি তাঁর নিজের দেশের নাগরিকত্ব প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে এই ধরনের হয়রানির মুখে পড়তে হয়, তবে একজন সাধারণ নাগরিকের অভিজ্ঞতা কেমন হতে পারে? এই প্রসঙ্গে পি. চিদাম্বরম দাবি করেছেন যে, এই বিতর্কিত প্রক্রিয়া শেষ হলে দেশের প্রাপ্তবয়স্ক জনসংখ্যার প্রায় ১০ শতাংশ নাগরিকত্ব পেলেও তাঁদের কোনো ভোটাধিকার থাকবে না। এই সংখ্যাটি প্রায় ১০ কোটির কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি।

চিদাম্বরম সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স (X)-এ সরাসরি ইসিআই-কে নিশানা করে লিখেছেন যে, নির্বাচন কমিশন এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অ-ভোটিং নাগরিক নামে একটি সম্পূর্ণ নতুন বিভাগ তৈরি করছে। এর আগে নবদীপ সুরি তাঁর নিজের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে জানিয়েছিলেন যে, তিনি যখন বিএলও (BLO)-এর কাছে গিয়ে ভোটার আইডি এবং আধার কার্ড জমা দিয়েছিলেন, তখন তাঁকে সম্পূর্ণ আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল যে সমস্ত নথিপত্র ঠিক আছে। কিন্তু পরবর্তীকালে একজন স্বেচ্ছাসেবকের কাছ থেকে তিনি একটি বার্তা পান যেখানে জানানো হয় যে, ২০০৩ সালের এসআইআর তালিকার সাথে তাঁর বর্তমান তথ্য মিলছে না। সুরি ব্যাখ্যা করেছেন যে, যাচাইয়ের জন্য ব্যবহৃত ২০০৩ সালের ভোটার তালিকার সাথে তাঁর তথ্য না মিলার মূল কারণ হলো, তিনি সেই সময় লন্ডনে কর্মরত ছিলেন এবং সেই তালিকা হালনাগাদ করার কাজে অংশ নিতে পারেননি।

এই গোটা ঘটনাকে কেন্দ্র করে জাতীয় রাজনীতিতে তীব্র জল্পনা ও প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। একদিকে যখন দেশের প্রাক্তন শীর্ষস্থানীয় কূটনীতিকরা অভ্যন্তরীণ যাচাইকরণ প্রক্রিয়ায় আমলাতান্ত্রিক জটিলতার মুখে পড়ছেন, তখন সাধারণ মানুষের অবস্থা কী হতে পারে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিরোধী শিবির। নির্বাচন কমিশনের এই বিশেষ নিবিড় পুনর্বিবেচনা প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা এবং কার্যকারিতা নিয়ে প্রবীণ কংগ্রেস নেতার এই তীব্র সমালোচনা আগামী দিনে সংসদীয় রাজনীতি এবং আইনি লড়াইয়ে এক নতুন মোড় নিতে পারে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।