স্বামীর ডেথ সার্টিফিকেটের জন্য দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন অসহায় স্ত্রী! সুদীপ্তা চক্রবর্তীর শোয়ে করুণ পরিণতি দেখে ঝাঁপিয়ে পড়লেন দেব

খুব কম সময়ের মধ্যেই ঘরে ঘরে বিপুল জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে বিশিষ্ট অভিনেত্রী সুদীপ্তা চক্রবর্তী সঞ্চালিত জনপ্রিয় রিয়েলিটি শো ‘লাখ টাকার লক্ষ্মী লাভ’। অভাবনীয় সাফল্যের হাত ধরেই বর্তমানে অত্যন্ত সফলভাবে সম্প্রচারিত হচ্ছে এই শোয়ের দ্বিতীয় মৌসুম বা সিজন। তবে এই সিজনের একটি বিশেষ পর্বে পশ্চিমবঙ্গের ঘাটাল মহকুমা থেকে উঠে আসা এক অসহায় হতদরিদ্র মহিলার মর্মান্তিক ও হৃদয়বিদারক কাহিনি গোটা রাজ্যকে স্তব্ধ করে দিয়েছে। সেই রিয়েলিটি শো-এর মঞ্চে প্রতিযোগী হিসেবে অংশ নেওয়া এক দুর্ভাগা নারীর চোখের জল ও চরম দুর্দশার কথা সামনে আসতেই মানবিকতার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন স্থানীয় তারকা-সাংসদ দেব, যা ইতিমধ্যেই নেটদুনিয়ায় এক বিশাল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
শোয়ের সম্প্রচারিত প্রোমো ও সম্প্রচার থেকে জানা যায়, পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার ঘাটাল মহকুমার অন্তর্গত চন্দ্রকোণার রাঙামাটি গ্রামের বাসিন্দা রীতা আড়ি নামের এক নারী এই শোয়ে প্রতিযোগী হিসেবে হাজির হয়েছিলেন। তাঁর জীবনের এই করুণ উপাখ্যান রীতিমতো শিহরণ জাগানোর মতো। গত ১১ মার্চ ২০২৬ তারিখে কীটনাশক খেয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নেন রীতার স্বামী রাখাল আড়ি। মূলত কৃষিকাজে উৎপাদিত ফসলের সঠিক ও ন্যায্য মূল্য না পাওয়ার কারণে চরম অর্থনৈতিক অনটন ও ঋণের জালে জড়িয়ে পড়েছিলেন তিনি। স্বামীর মর্মান্তিক মৃত্যুর পর থেকেই দুই ছোট ছেলেকে নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন রীতা। একদিকে স্বামীর চিকিৎসার জন্য ঘাটাল মহকুমা হাসপাতালে নেওয়া এবং অন্যদিকে মাথার ওপর বিশাল অঙ্কের ঋণের বোঝা—সবমিলিয়ে তাঁর জীবন এখন এক জীবন্ত নরক। রীতা শোয়ের মঞ্চে জানান যে তাঁর স্বামীর নামে নেওয়া ঋণের কারণে প্রতি মাসে সাত হাজার টাকা করে কিস্তি দিতে হচ্ছে। অথচ মৃত্যুর পাঁচ মাস অতিক্রান্ত হয়ে গেলেও আজও তিনি স্বামীর সরকারি ডেথ সার্টিফিকেট বা মৃত্যু শংসাপত্র হাতে পাননি। নিয়ম অনুযায়ী, সেই সার্টিফিকেট পেলে লোন বা ঋণ মকুব হয়ে যেত, কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালের অলিগলি চক্কর কেটেও কোনো সুরাহা মেলেনি। সবকিছু বিক্রি করে এখন তাঁকে এই ঋণের কিস্তি মেটাতে হচ্ছে।
প্রতিযোগীর মুখে এই মর্মান্তিক দুর্দশার কথা শুনে শোয়ের সঞ্চালিকা সুদীপ্তা চক্রবর্তী গভীর আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। তিনি শোয়ের সমস্ত দর্শকদের উদ্দেশ্যে হাতজোড় করে বিনীত আবেদন জানান, সরকারি দপ্তরের সঙ্গে যুক্ত বা প্রশাসনের কোনো ব্যক্তি যদি কোনোভাবে মৃত রাখালের ডেথ সার্টিফিকেটটি দ্রুত বের করে দিতে সাহায্য করেন, তবে এই অসহায় পরিবারটি বিরাট বড় বিপদের হাত থেকে রক্ষা পাবে এবং রীতার সমস্ত লোন মকুব হয়ে যেতে পারে।
এই হৃদয়বিদারক ভিডিয়োটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই তা নজর এড়ায়নি ঘাটালের জনপ্রিয় অভিনেতা-সাংসদ দেবের। রীতা আড়ির এই করুণ আর্তনাদ এবং সুদীপ্তা চক্রবর্তীর আবেগঘন আহ্বান দেখার পর মুহূর্তের মধ্যে তৎপর হয়ে ওঠেন দেব। তিনি নিজের অফিসিয়াল সোশ্যাল মিডিয়া ওয়ালে সেই ভিডিয়োটি শেয়ার করে অত্যন্ত দায়িত্বশীলভাবে ক্যাপশনে লিখে দেন, “কালকে জানাচ্ছি দি।” অর্থাৎ পুরো বিষয়টি নিজে ব্যক্তিগতভাবে খতিয়ে দেখার এবং ওই অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর জোরালো আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
তারকা সাংসদের এমন সংবেদনশীল ও দ্রুত মানবিক পদক্ষেপ দেখে নেটপাড়ায় প্রশংসার ঝড় উঠেছে। সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে দেবের অগণিত অনুরাগীরা তাঁর ভূয়সী প্রশংসা করছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় নেটিজেনরা কমেন্ট বক্সে লিখেছেন যে দেব কেবল বড় পর্দার হিরোই নন, বাস্তবের জগতেও তিনি মানুষের বিপদে এভাবেই বারবার ত্রাতা হয়ে পাশে দাঁড়ান। সুদীপ্তা চক্রবর্তীর মঞ্চ থেকে শুরু হওয়া এই মানবিক লড়াইয়ে দেব কীভাবে রীতা আড়ির পরিবারের বঞ্চনা ও সমস্যার স্থায়ী সমাধান করেন, এখন সেই দিকেই তাকিয়ে রয়েছে গোটা বাংলা।