দুর্গোৎসবেও মুখে হাসি নেই, বিলুপ্তির পথে রামজীবনপুরের ঐতিহ্যবাহী তাঁত শিল্প

হাতে আর বেশি দিন নেই, শুরু হবে বাঙালির প্রাণের উৎসব দুর্গাপূজা। কিন্তু উৎসবের এই সময়েও পশ্চিম মেদিনীপুরের রামজীবনপুরের তাঁত শিল্পীদের মুখে নেই হাসি। একসময় যে তাঁত শিল্পের খটাখট শব্দে গমগম করত এই এলাকা, তা আজ প্রায় নীরব। মেশিন এবং রেশম শাড়ির দাপটে এই ঐতিহ্যবাহী তাঁত শিল্প আজ বিলুপ্তির মুখে।

পেটের দায়ে তাঁত ছেড়েছেন অনেকেই
রামজীবনপুর পুরসভার ১১টি ওয়ার্ডের মধ্যে ১ থেকে ৫ নম্বর ওয়ার্ডে শত শত পরিবার বংশ পরম্পরায় তাঁত শিল্পের সঙ্গে জড়িত ছিল। কিন্তু বর্তমানে হাতে গোনা কয়েকটি পরিবার কোনোমতে এই কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। তাঁত শিল্পীদের অভিযোগ, মহাজনদের কাছ থেকে তাঁত শাড়ির অর্ডার এবং মজুরি দুটোই কমে গেছে। মেশিনের তৈরি শাড়ির দাপটে হাতে বোনা সুতির তাঁত শাড়ির কদর কমে গেছে, আর বেড়েছে রেশম ও সিল্কের শাড়ির চাহিদা।

এই শিল্পের সঙ্গে যুক্ত বংশী দাস জানান, একসময় ৪০০ পরিবারের প্রায় সবাই এই কাজ করতেন। কিন্তু করোনার পর থেকে পরিস্থিতি একেবারেই বদলে গেছে। উপার্জন কমে যাওয়ায় নতুন প্রজন্ম এই পেশায় আগ্রহ দেখাচ্ছে না। পেটের তাগিদে অনেকেই এখন রাজ্যের বাইরে গিয়ে অন্য পেশা বেছে নিচ্ছেন।

সরকারি সহায়তার অভাব
শিল্পীরা অভিযোগ করেছেন, এই শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য সরকার বা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না। কাঁচামাল, বিশেষ করে সুতোর জোগানও বন্ধ করে দিয়েছেন মহাজনরা। শিল্পী রামপ্রসাদ দাস জানান, একসময় তাদের ব্যবসা ‘সুবর্ণযুগ’ পার করলেও, এখন তা প্রায় শ্মশানে পরিণত হয়েছে।

যদিও রামজীবনপুর পুরসভার চেয়ারম্যান কল্যাণ তিওয়ারি জানিয়েছেন, তাঁরা সংশ্লিষ্ট দফতর এবং মন্ত্রীর সঙ্গে এই বিষয়ে কথা বলেছেন এবং এই শিল্পকে বাঁচানোর জন্য সরকারের কাছে আবেদন জানিয়েছেন।

তবে, শুধুমাত্র সরকারি আশ্বাসেই কি এই বিলুপ্তপ্রায় শিল্পকে বাঁচানো সম্ভব হবে, নাকি রামজীবনপুরের ঐতিহ্য শুধু ইতিহাসের পাতায় থেকে যাবে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।