দুর্গাপুরের বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজের ছাত্রীকে গণধর্ষণের ঘটনায় তীব্র রাজনৈতিক চাপানউতোরের মধ্যেই নয়া মোড়। এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই ৩ অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তবে রবিবার বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী তাঁর নিজস্ব সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট থেকে অভিযুক্তদের নাম প্রকাশ্যে আনলেন।
শুভেন্দু অধিকারীর ভিডিও পোস্টে নাম ফাঁস:
শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) তাঁর পোস্ট করা ভিডিওটির ক্যাপশনে চার অভিযুক্তের নাম উল্লেখ করে লিখেছেন, “দুর্গাপুরের বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজের ডাক্তারি পড়ুয়ার গণধর্ষণের অভিযুক্তরা হলেন শেখ নাসিম উদ্দিন, শেখ রিয়াজ উদ্দিন, শেখ ফেরদৌস ও শেখ সফিকুল। প্রত্যেকের বাড়ি বিজড়া গ্রামে।”
উল্লেখ্য, এই মামলায় তৃণমূল কংগ্রেস ইতিমধ্যেই ‘অপরাজিতা বিল’ ইস্যুতে কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে পাল্টা আক্রমণ শানিয়েছে। এর মধ্যেই বিরোধী দলনেতার এই ভিডিও পোস্ট বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
৫ জনকে চিহ্নিত, কীভাবে ধরা পড়ল অভিযুক্তরা?
পুলিশ সূত্রে খবর, এই মামলায় মোট ৫ জন অভিযুক্তকে চিহ্নিত করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ৩ জনকে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছে। মোবাইল টাওয়ারের লোকেশন ট্রেস করেই অভিযুক্তদের জালে এনেছে পুলিশ। বাকি ২ অভিযুক্ত এখনও পলাতক। তাদের খোঁজে জেলার বিভিন্ন প্রান্তে তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ।
তদন্তে জানা গিয়েছে, ঘটনার দিন নির্যাতিতা এক সহপাঠীর সঙ্গেই ওই এলাকায় গিয়েছিলেন। নির্যাতিতার বাবার অভিযোগ, তাঁর মেয়ের ওই সহপাঠীও ঘটনায় জড়িত থাকতে পারে। সেই সন্দেহে পুলিশ গতকাল ওই সহপাঠীকে আটক করেছে। যদিও তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেফতার করা হয়েছে কিনা, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
পুলিশ জানিয়েছে, প্রথমে তিনজন এসে নির্যাতিতার ফোন কেড়ে নেয়। পরে অপর দুজন এসে প্রশ্ন করলে নির্যাতিতা জানান যে ফোন কেড়ে নেওয়া হয়েছে। এরপর নির্যাতিতা ওই দুজনের কাছ থেকে ফোন নিয়ে নিজের নম্বরে কল করেন। সেই ফোন নম্বরের সূত্র ধরেই রহস্যের জাল খুলতে শুরু করে পুলিশ এবং অভিযুক্তদের চিহ্নিত করে।
পুলিশের দাবি, পলাতক দুই অভিযুক্তও খুব শিগগিরই ধরা পড়বে। ঠিক কী কারণে সে দিন নির্যাতিতা ও তার সহপাঠী পরানগঞ্জ শ্মশান সংলগ্ন ওই নির্জন এলাকায় গিয়েছিলেন, সেই বিষয়েও তদন্ত চলছে।





