দুর্গাপুর গণধর্ষণ কাণ্ড, নির্যাতিতার বাবাকে ফোন ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রীর, পাশে থাকার আশ্বাস দিয়ে দ্রুত আরোগ্য কামনা

দুর্গাপুরের বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজে ডাক্তারি পড়তে এসে গণধর্ষণের শিকার হওয়া ওড়িশার জলেশ্বরের তরুণীর বাবার সঙ্গে শনিবার রাতে ফোন করে কথা বললেন ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহন মাঝি। তিনি নির্যাতিতার পরিবারকে সব ধরনের সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছেন এবং এই কঠিন সময়ে পাশে থাকার বার্তা দিয়েছেন।

মুখ্যমন্ত্রীর আশ্বাস:

সংবাদসংস্থা পিটিআই জানিয়েছে, শনিবার রাতে মুখ্যমন্ত্রী নির্যাতিতার বাবার সঙ্গে দীর্ঘ সময় ধরে আলোচনা করেন। তিনি ঘটনা সম্পর্কে বিস্তারিত খোঁজ নেন এবং পুলিশি তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কেও জানতে চান। পরে মুখ্যমন্ত্রীর কার্যালয়ের তরফে জারি করা এক বিবৃতিতে লেখা হয়:

“আপনার মেয়ের কথা শুনে আমার মন খারাপ হয়ে গিয়েছে। যে বাবার মেয়ে গণধর্ষণের শিকার, তাঁর মানসিক পরিস্থিতি অনুমান করা আমার পক্ষে কঠিন নয়। আমি আপনার যন্ত্রণা খুব ভালোভাবে বুঝতে পারছি। এই সঙ্কটের সময় রাজ্য সরকার আপনাদের পাশে আছে।”

মুখ্যমন্ত্রী মোহন মাঝি নির্যাতিতার দ্রুত আরোগ্য কামনা করে আশা প্রকাশ করেছেন যে, তিনি শারীরিক সঙ্কট কাটিয়ে দ্রুত জীবনের স্বাভাবিক ছন্দে ফিরে আসবেন। নির্যাতিতার বাবাও এই কঠিন সময়ে পাশে থাকার জন্য মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

রাজনৈতিক চাপানউতোর:

নির্যাতিতার বাবাকে ফোন করার আগে মুখ্যমন্ত্রী মোহন মাঝি নিজের ‘এক্স’ হ্যান্ডেলে একটি পোস্ট করে অপরাধীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে বাংলার মুখ্যমন্ত্রীকে অনুরোধ জানান। তাঁর টুইটের কয়েক ঘণ্টা পরেই এই ঘটনায় চারজন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পাশাপাশি, ওড়িশার শীর্ষ পুলিশ আধিকারিকদের ঘটনা সম্পর্কে খোঁজ-খবর রাখতে এবং তদন্তের ওপর নজর রাখতে বলা হয়েছে।

এদিকে, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিধানসভা নির্বাচনের কয়েক মাস আগে এই ঘটনা শাসক শিবির তৃণমূল কংগ্রেসের অস্বস্তি বাড়িয়েছে। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার একে একে রাজ্য প্রশাসনকে নিশানা করেছেন।

অন্যদিকে, রাজ্যের মন্ত্রী শশী পাঁজা পাল্টা বিরোধীদের তোপ দেগেছেন। তিনি ওড়িশার মতো রাজ্যে নারীদের সঙ্গে হওয়া একাধিক নির্যাতনের অভিযোগ তুলে দাবি করেন, এই ধরনের নারকীয় ঘটনা আজকাল বেশি করে ঘটছে। তিনি বিজেপিকে ধর্ষণের মতো গুরুতর ঘটনায় রাজনীতি না করে পুলিশকে তদন্ত করতে দেওয়ার আহ্বান জানান।