দুর্গাপুরে ‘রত্নগর্ভা বাংলা’, চমকে দেবে এই পুজো! নারী শক্তি ও মাতৃত্বের মহিমা কীভাবে তুলে ধরা হচ্ছে মণ্ডপে?

দুর্গাপুরের অন্যতম আকর্ষণীয় পুজো, সেপকো সর্বজনীন দুর্গোৎসব এবার ২৩তম বর্ষে এক অভিনব থিম নিয়ে হাজির হয়েছে: ‘রত্নগর্ভা’। এই থিমের মাধ্যমে সমাজ গঠনে মাতৃত্বের মহিমা এবং নারীর ভূমিকা তুলে ধরা হচ্ছে। পুজো মণ্ডপটি এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে, যাতে তা কেবল একটি উৎসবের স্থান না হয়ে একটি শিক্ষণীয় কেন্দ্রে পরিণত হয়।
নারী জাগরণের পথিকৃৎদের সম্মান
মণ্ডপজুড়ে রাজা রামমোহন রায় ও ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের সমাজ সংস্কারের অবদান তুলে ধরা হবে। বিশেষ করে সতীদাহ প্রথা উচ্ছেদ, বিধবা বিবাহ প্রচলন এবং নারী শিক্ষার প্রসারে তাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা বিভিন্ন তথ্য ও চিত্রের মাধ্যমে প্রদর্শিত হবে। মণ্ডপের মূল অংশটি তৈরি হয়েছে একটি মাতৃগর্ভের আকারে, যা জীবনের উৎস এবং নারীর সৃষ্টিশীল ক্ষমতাকে প্রতীকীভাবে তুলে ধরে। এছাড়াও, মণ্ডপ ঘিরে থাকবে দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রের সফল ও কৃতি নারীদের চিত্র।
শিল্পীর হাতের জাদুতে মণ্ডপ ও প্রতিমা
এই বিশাল মণ্ডপটি তৈরি করছেন দুর্গাপুরের শিল্পী অভিজিৎ পিপলাই, যার উচ্চতা ৬০ ফুট এবং প্রস্থ ৭৫ ফুট। অন্যদিকে, প্রায় ১৩ ফুট উচ্চতার প্রতিমাটি গড়ছেন কৃষ্ণনগরের মৃৎশিল্পী বিকাশ পাল, যা দর্শনার্থীদের বিশেষ আকর্ষণ করবে। প্রায় ২৫ লাখ টাকা বাজেটের এই পুজোর আলোকসজ্জায় থাকবে আলোছায়ার খেলা।
পুজোর উদ্যোক্তা নিরঞ্জন মণ্ডল জানান, তাদের পুজো কমিটি একাধিকবার আকর্ষণীয় থিম এবং প্রতিমার জন্য বিশ্ববাংলা শারদ সম্মান পেয়েছে। এ বছরও তারা সেরা হওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী। চতুর্থীতে পুজোর উদ্বোধন হবে এবং ষষ্ঠী থেকে দ্বাদশী পর্যন্ত চলবে সাংস্কৃতিক ও বিচিত্রানুষ্ঠান। এখানে বিশিষ্ট সংগীতশিল্পী অর্পিতা চক্রবর্তী এবং স্নিগ্ধজিৎ-এর মতো শিল্পীরাও আসবেন।