“দুর্গাপুরে প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন সভায় আমাকে কেউ আমন্ত্রণ জানাননি”— ফের বিস্ফোরক দিলীপ

দুর্গাপুরে প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন সভায় তাঁকে কেউ ‘আমন্ত্রণ জানাননি’— ফের বিস্ফোরক মন্তব্য করে রাজ্য বিজেপির অন্দরে জল্পনা উস্কে দিলেন প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। তাঁর দাবি, তিনি দলের কর্মী হিসেবেই সভায় যাবেন এবং কর্মীদের সঙ্গেই প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ শুনবেন। এই ঘটনাকে ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর।

মঙ্গলবার সকালে প্রাতঃভ্রমণে বেরিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে দিলীপ ঘোষ বলেন, “আমাকে কেউ আমন্ত্রণ করেননি। ওখানকার কর্মীরা আমাদের নিমন্ত্রণ করেছেন। বলেছেন, দিলীপদা আসুন, একসঙ্গে বসে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ শুনব। আমি সেই কর্মী হিসাবেই যাচ্ছি সেখানে। নেতা হিসাবে নয়। মঞ্চে থাকার বিষয়টি পার্টি বলবে। এখনও আমাকে মঞ্চে থাকার কথা কেউ বলেনি। আমি জনতার মধ্যে থাকব।” তিনি আরও বলেন, “বেশ কয়েক বছর ধরে দিলীপ ঘোষ কর্মী হিসাবে থাকে, সমস্ত সভা সমিতিতে যায়।” রাজ্য বিজেপির তরফ থেকে এখনও পর্যন্ত তাঁর কাছে কোনও নিমন্ত্রণ যায়নি বলেও স্পষ্ট জানান দিলীপ।

এই মন্তব্যের পর প্রশ্ন ওঠে, তাহলে আলিপুরদুয়ারের সভাতে তিনি কেন যাননি? জবাবে দিলীপ ঘোষ বলেন, আলিপুরদুয়ারের সভাতেও তাঁকে কেউ আমন্ত্রণ জানাননি, তিনি টিভিতে ভাষণ শুনেছেন। তবে দুর্গাপুরের ক্ষেত্রে যেহেতু তিনি সেখানকার লোকসভার প্রার্থী ছিলেন, তাই যাচ্ছেন।

দিলীপ ঘোষের এই ‘অনাহূত’ মন্তব্যের পরেই তাঁকে কটাক্ষ করতে ছাড়েননি তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ। তিনি ব্যঙ্গ করে বলেন, “দিলীপ ঘোষ আসলে ওয়ার্ল্ড কাপ জিতলেন। কারণ আগে অমিত শাহর সভায় যেহেতু সুকান্ত-শুভেন্দু আসতে দেননি। কিন্তু এখন দিলীপ আবার ফিরে আসছেন। এটা বিজেপির অভ্যন্তরীণ লড়াই।” কুণাল ঘোষের এই মন্তব্য বিজেপির গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের দিকেই ইঙ্গিত করছে।

তবে দিলীপের পাশে দাঁড়িয়েছেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তিনি জোর গলায় বলেন, “দিলীপ ঘোষ অন্য দলের নেতা নাকি? তিনি পার্টির সঙ্গে ছিলেন, আছেন, থাকবেন।” শমীকের এই মন্তব্য দিলীপের অবস্থানকে কিছুটা হলেও সমর্থনের ইঙ্গিত দিচ্ছে, তবে প্রধানমন্ত্রীর সভা ঘিরে দিলীপের এই বিস্ফোরক মন্তব্য বিজেপির অন্দরের সমীকরণকে নতুন করে আলোচনায় এনেছে।