দু’বছর পর আজই প্রকাশ্যে শেখ হাসিনা! ভারত থেকে প্রত্যর্পণের দাবি জোরালো করল ঢাকা!

ঠিক দু’বছর আগে ছাত্র আন্দোলনের ঐতিহাসিক জেরে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছিলেন বাংলাদেশের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তারপর দীর্ঘ সময় ধরে তিনি অজ্ঞাতবাসেই কাটিয়েছেন। যদিও অতীতে দেশবাসী ও দলীয় কর্মীদের উদ্দেশ্যে কিছু অডিও বা লিখিত বার্তা তিনি দিয়েছিলেন, কিন্তু সশরীরে বা প্রকাশ্যে কখনোই তাঁকে আর দেখা যায়নি। তবে অবশেষে আজ বুধবার দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে প্রকাশ্যে আসার কথা রয়েছে শেখ হাসিনার। তবে সরাসরি সশরীরে উপস্থিত না হয়ে তিনি সম্পূর্ণ ভার্চুয়াল মাধ্যমের সাহায্যেই সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হতে চলেছেন।

উল্লেখ্য, ২০২৫ সালেই বাংলাদেশের একটি বিশেষ আদালত শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছিল। বিগত সময়ে ছাত্র আন্দোলন ও গণবিক্ষোভ দমন করতে গিয়ে তিনি যেভাবে কঠোর ও মানবতাবিরোধী পদক্ষেপ করেছিলেন, তারই শাস্তি হিসেবে এই কঠোর আইনি নির্দেশ দেওয়া হয়। যদিও আদালতের এই বিতর্কিত রায়কে প্রথম থেকেই মানতে নারাজ ছিলেন হাসিনা। রাজনৈতিক মহলের একাংশের ধারণা, জনসমক্ষে ভার্চুয়ালি আসার মাধ্যমে তিনি হয়তো আগামী দিনে বাংলাদেশে ফেরার নিজস্ব রাজনৈতিক প্রস্তুতি বা কৌশলও শুরু করতে পারেন। প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালে আকস্মিক দেশ ছাড়ার পর থেকেই তিনি ভারতে নিরাপদ আশ্রয়ে অজ্ঞাতবাসে বসবাস করছেন।

এদিকে, শেখ হাসিনার এই সম্ভাব্য প্রকাশ্যে আসার খবরের মাঝেই তাঁকে ভারত থেকে অবিলম্বে প্রত্যর্পণের দাবি আরও জোরালো করে তুলেছে ঢাকা। বাংলাদেশের বর্তমান প্রশাসনের তথ্য এবং সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন যে, শেখ হাসিনা যদি শেষ পর্যন্ত দেশে ফিরে আসেন, তবে তাঁকে সঙ্গে সঙ্গেই গ্রেফতার করার জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে প্রশাসন। মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে জাহেদ উর রহমান জানান যে, হাসিনার বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া শুরু করতে বদ্ধপরিকর ঢাকা এবং কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে এই বার্তা নয়াদিল্লিকে বারবার স্পষ্টভাবে জানিয়েও দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ সরকারের ওই শীর্ষকর্তা আরও বলেন, “শেখ হাসিনা যদি সত্যিই দেশে ফিরতে চান, তবে তিনি অবশ্যই চলে আসুন, আমরাও সবরকম প্রস্তুতি নিয়ে তৈরি রয়েছি। আমরা তাঁকে সরাসরি আইনের মুখোমুখি দাঁড় করাতে চাই। দেশের আইন অনুযায়ী তিনি যাতে আইনি লড়াইয়ে পূর্ণ ন্যায়বিচার পান, আমরা তা নিশ্চিত করব। তবে তার আগে নিয়মমাফিক তাঁকে প্রথমত গ্রেফতার করা হবে। এরপর তিনি তাঁর যাবতীয় সাংবিধানিক ও আইনি অধিকার ভোগ করার সুযোগ পাবেন। পরবর্তীতে দেশের আদালত তাঁর মৃত্যুদণ্ডের সাজা বহাল রাখুক, তাঁকে মুক্তি দিক কিংবা অন্য কোনো রায় দিক—তাঁদের সেই সিদ্ধান্ত মেনে নিতে আমাদের কোনো আপত্তি থাকবে না।”

অন্যদিকে, ভারতের মাটিতে আয়োজিত হতে চলা শেখ হাসিনার এই ভার্চুয়াল সাংবাদিক বৈঠক যাতে কোনোভাবেই দেশটির স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে সম্প্রচারিত না হয়, তার জন্য কড়া সতর্কবার্তা জারি করেছে বাংলাদেশ সরকার। ঢাকার দাবি অনুযায়ী, শেখ হাসিনার কোনো ধরনের বক্তব্য বা মন্তব্য জনসমক্ষে প্রকাশ বা সম্প্রচার করা যাবে না মর্মে বাংলাদেশের একটি বিশেষ ট্রাইব্যুনাল ইতিমধ্যেই সুনির্দিষ্ট নির্দেশিকা জারি করেছে। যদিও এই প্রসঙ্গে শেখ হাসিনার বিশ্বস্ত সহযোগী আবু ওবাইধা আরিন তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে পাল্টা দাবি করেছেন যে, বিরোধী তথা প্রতিবাদী কণ্ঠস্বরকে গলা টিপে হত্যা করার ঢাকার এই সমস্ত অপচেষ্টা কখনোই সফল হবে না।

Riya Chakrabarty
  • Riya Chakrabarty