মহাবিশ্বের রহস্যের কোনো শেষ নেই। ঠিক ৭০ বছর আগে এমনই এক রহস্যময় ঘটনার সাক্ষী হয়েছিল এই পৃথিবী, যা স্তম্ভিত করে দিয়েছিল সেই সময়ের বিজ্ঞানীদের। ভরদুপুরে হঠাৎ করেই নিভে গিয়েছিল সূর্য! দিনের আলো মুছে গিয়ে নেমে এসেছিল অমাবস্যার অন্ধকার। সাম্প্রতিক গবেষণায় উঠে আসছে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য— সেই বিরল মহাজাগতিক মুহূর্ত ফের ফিরে আসতে পারে যে কোনো সময়।
কী ঘটেছিল ৭০ বছর আগে? সালটা ছিল ১৯৫৫। পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণের এক দীর্ঘস্থায়ী রেকর্ড তৈরি হয়েছিল সে বছর। ফিলিপাইন থেকে শুরু করে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিস্তীর্ণ অংশে টানা ৭ মিনিট ৮ সেকেন্ডের জন্য সূর্যকে সম্পূর্ণ ঢেকে দিয়েছিল চাঁদ। আকাশ এতটাই অন্ধকার হয়ে গিয়েছিল যে, দিনের বেলাতেই নক্ষত্ররাজি দেখা দিতে শুরু করেছিল। পাখিরা বাসায় ফিরে গিয়েছিল আর মানুষ ভেবেছিল হয়তো পৃথিবীর শেষ সময় ঘনিয়ে এসেছে।
কেন আবার ফেরার সম্ভাবনা? মহাকাশবিজ্ঞানীদের মতে, সূর্যের চক্রাকার আবর্তন এবং পৃথিবীর কক্ষপথের বিশেষ বিন্যাস আবার সেই পরিস্থিতির দিকেই এগোচ্ছে। ‘সারোস সাইকেল’ (Saros Cycle) অনুযায়ী, মহাজাগতিক ঘটনাগুলো নির্দিষ্ট সময় অন্তর ফিরে আসে। তবে এবারের প্রেক্ষাপট ভিন্ন। বিজ্ঞানীরা আশঙ্কা করছেন, কেবল গ্রহণ নয়, শক্তিশালী ‘সৌরঝড়’ বা সোলার ফ্লেয়ারের কারণেও আকাশ সাময়িকভাবে অন্ধকার হয়ে যেতে পারে, যা পৃথিবীর যোগাযোগ ব্যবস্থাকে তছনছ করে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে।
প্রস্তুতি কেমন চলছে? নাসা (NASA) এবং ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থা (ESA) এখন থেকেই সূর্যের ওপর কড়া নজরদারি শুরু করেছে। যদি সত্যিই তেমন কোনো দীর্ঘস্থায়ী সূর্যগ্রহণ বা ব্ল্যাকআউট ফিরে আসে, তবে তার প্রভাব মোকাবিলা করার জন্য স্যাটেলাইটগুলোকে সুরক্ষিত রাখার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
মহাকাশ গবেষকদের মতে, এটি কোনো ভৌতিক ঘটনা নয়, বরং নিখাদ বিজ্ঞান। তবে সেই ৭ মিনিটের ‘সূর্যহীন’ অন্ধকারের অভিজ্ঞতা বর্তমান প্রজন্মের কাছে কোনো হরর মুভির চেয়ে কম রোমাঞ্চকর হবে না।





