বৃন্দাবনের রাস্তা দিয়ে সাদা ধুতি পরে যখন এক শান্ত সৌম্য সন্ন্যাসী হেঁটে যান, তখন কাতারে কাতারে মানুষ রাস্তার দুধারে ভিড় জমান শুধু এক পলক দেখার জন্য। তিনি শ্রী হিত প্রেমানন্দ গোবিন্দ শরণ মহারাজ, যাঁকে সারা বিশ্ব এখন ‘প্রেমানন্দ মহারাজ’ নামেই চেনে। কিন্তু কেন সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে বড় বড় তারকারা তাঁর কাছে ছুটে আসেন? কেনই বা তাঁর কথা মানুষের মনে গভীর প্রভাব ফেলে?
কে এই প্রেমানন্দ মহারাজ?
প্রেমানন্দ মহারাজের জন্ম উত্তরপ্রদেশের এক ব্রাহ্মণ পরিবারে। শৈশব থেকেই তিনি আধ্যাত্মিকতার প্রতি আকৃষ্ট ছিলেন। মাত্র ১৩ বছর বয়সে সংসার ত্যাগ করে তিনি সন্ন্যাস ধর্ম গ্রহণ করেন। দীর্ঘ সময় বারাণসীতে কঠোর তপস্যার পর তিনি বৃন্দাবনে শ্রী রাধারানির চরণে নিজেকে উৎসর্গ করেন।
বিরাট-অনুষ্কার ভক্তি এবং তারকাদের আনাগোনা
কিছু সময় আগে ভারতীয় ক্রিকেট তারকা বিরাট কোহলি এবং অভিনেত্রী অনুষ্কা শর্মা তাঁদের মেয়ে ভামিকাকে নিয়ে মহারাজের আশ্রমে গিয়েছিলেন। সেখানে মাটিতে বসে মহারাজের কথা শোনার সেই ভিডিও ইন্টারনেটে ঝড়ের গতিতে ভাইরাল হয়েছিল। শুধু তাঁরাই নন, গায়ক জুবিন নটিয়াল থেকে শুরু করে রেসলার দ্য গ্রেট খলি— সবাই ভিড় জমান তাঁর দরবারে। তারকাদের আকর্ষণের কারণ:
সহজ জীবনদর্শন: তিনি জটিল শাস্ত্রীয় আলোচনার বদলে দৈনন্দিন জীবনের সমস্যার অতি সহজ সমাধান বাতলে দেন।
অহংকার ত্যাগ: বড় বড় ভিআইপি-দেরও তিনি সাধারণ মানুষের মতোই মাটির আসনে বসিয়ে কথা বলেন, যা তাঁদের জীবনের প্রকৃত অর্থ বুঝতে সাহায্য করে।
দুই কিডনি বিকল, তবুও অটুট মনোবল
মহারাজের জীবনের সবচেয়ে বিস্ময়কর দিক হলো তাঁর শারীরিক অবস্থা। গত প্রায় ২০ বছর ধরে তাঁর দুটি কিডনিই অকেজো। চিকিৎসকদের মতে, এই অবস্থায় বেঁচে থাকা এক অলৌকিক ঘটনা। প্রতিদিন তিনি ডায়ালিসিসের মধ্য দিয়ে যান, কিন্তু তাঁর মুখে ক্লান্তির বদলে সর্বদা এক দিব্য হাসি এবং ‘রাধা নাম’ লেগে থাকে। তাঁর এই মানসিক শক্তিই ভক্তদের কাছে সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা।
মহারাজের বিশেষ বার্তা
প্রেমানন্দ মহারাজ বিশ্বাস করেন, ভক্তি মানে কেবল মালা জপ করা নয়, বরং মানুষের সেবা এবং সত্য পথে চলাই হলো শ্রেষ্ঠ ধর্ম। তিনি যুবসমাজকে মাদক ও খারাপ সঙ্গ ত্যাগ করে সৎ পথে আসার ডাক দেন।
আজকের এই অস্থির সময়ে তাঁর অমৃতবাণী যেন লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবনে শান্তির পরশ বুলিয়ে দিচ্ছে।





