দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান! রাজ্যে কি ফিরছে ছাত্রভোট? মুখ খুললেন উচ্চশিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়

দীর্ঘদিন ধরে রাজ্যে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় স্তরে ছাত্রভোট বন্ধ। ক্ষমতার পালাবদলের পরেও সেই পুরনো ছবিই অব্যাহত। তবে কি ফের ছাত্রভোটের পথ প্রশস্ত হচ্ছে? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে রাজ্যের উচ্চশিক্ষা মন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় ছাত্রভোট নিয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। তাঁর কথায়, এখন ছাত্রভোটের চেয়েও বড় চ্যালেঞ্জ হলো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে পড়ুয়াদের ফিরিয়ে আনা।
উচ্চশিক্ষা মন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, সরকার পরিচালিত ও পোষিত কলেজগুলিতে বর্তমানে পড়ুয়ার চরম আকাল। গত ১৫ বছরের প্রবণতা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, পড়াশোনার সুযোগ বা পরিবেশের অভাব থাকায় ছাত্রছাত্রীরা ভিন রাজ্যে বা বেসরকারি ক্ষেত্রে পাড়ি দিচ্ছে। মন্ত্রীর সাফ কথা, “আমাদের প্রথম লক্ষ্য হলো কলেজ ক্যাম্পাসে ছাত্রছাত্রী ফিরিয়ে আনা। পড়ুয়াদের উপস্থিতি নিশ্চিত হলেই তবে ছাত্রভোটের প্রসঙ্গটি গুরুত্ব পাবে।” অর্থাৎ, ক্যাম্পাসে পড়ুয়ার সংখ্যাই এখন সরকারের কাছে প্রধান অগ্রাধিকার।
মন্ত্রীর এই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে ছাত্র সংগঠনগুলির মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। এসএফআই-এর রাজ্য সম্পাদক দেবাঞ্জন দে রাজ্যের শিক্ষাব্যবস্থার বেহাল অবস্থার জন্য বিগত ১৫ বছরের শাসনকালকে দায়ী করেছেন। তিনি পরিসংখ্যান দিয়ে জানান, “কলকাতার স্নাতক স্তরে ৯৩ হাজার আসনের মধ্যে ৩৩ হাজার ভর্তি হয়েছে, বাকি ৬০ হাজার আসন এখনও ফাঁকা। তবে ক্যাম্পাস ফাঁকা থাকা আর ছাত্রভোট—এই দুটি বিষয়কে এক করে দেখা ঠিক নয়। গণতন্ত্রের প্রসারে এবং ক্যাম্পাসের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ পুনরুদ্ধারে ছাত্রভোট অনিবার্য।”
অন্যদিকে, এবিভিপি নেতা শুভব্রত অধিকারী শিক্ষাব্যবস্থা পুনর্গঠনের দাবি তুলেছেন। তিনি বলেন, “লিংডো কমিশনের সুপারিশ মেনে ছাত্রভোট হওয়া উচিত। আমরা চাই সরকার তার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করুক। শিক্ষাব্যবস্থার বেহাল দশা দূর করা এবং গণতান্ত্রিক উপায়ে ছাত্রভোট—উভয়ই বর্তমান সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।”
এই বিতর্কে তৃণমূলের প্রাক্তন ছাত্রনেতা তথা ঋতব্রতপন্থী তৃণমূলের মুখপাত্র কোহিনুর মজুমদারের দাবি, “কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা হবে, এটাই কাম্য। তৃণমূল ছাত্র পরিষদে থাকাকালীন আমরাও ভোট চেয়েছিলাম। এই সরকার ভোটের আগে ছাত্রভোটের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, সরকার কথা রাখবে এবং স্বচ্ছ নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্রের চর্চা শুরু হবে।”
রাজ্যের এই শিক্ষাঙ্গনে ছাত্রভোট হবে কি না, তা নিয়ে বর্তমানে শাসক ও বিরোধী উভয় শিবিরেই চর্চা তুঙ্গে। একদিকে শিক্ষাব্যবস্থার আমূল সংস্কারের দাবি, অন্যদিকে গণতান্ত্রিক অধিকার পুনরুদ্ধারের তাগিদ—সব মিলিয়ে ছাত্রভোটের ভবিষ্যৎ এখন সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপের ওপরই নির্ভর করছে।