হুগলি জেলার আরামবাগ পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডে একটি বস্তি উচ্ছেদকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। প্রায় ৪০ বছরের আইনি লড়াই শেষে আদালতের নির্দেশে প্রশাসন এই বস্তি উচ্ছেদের কাজ শুরু করেছে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ঘটনাস্থলে আরামবাগ থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী এবং আরামবাগ মহকুমার বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
আইনি জটিলতা ও দীর্ঘ অপেক্ষা
১৯৬০ সাল থেকে জমিটির মালিকানা নিয়ে আইনি লড়াই শুরু হয়েছিল। ১৯৮৫ সালে আদালত জমির প্রকৃত মালিকের পক্ষে রায় দেয়। কিন্তু এরপরও নানা বাধার কারণে মালিক তার জমি ফিরে পেতে পারেননি। বস্তির বাসিন্দাদের অভিযোগ, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা তাদের সাহায্য করতেন বলে তারা উচ্ছেদের হাত থেকে এতদিন রক্ষা পেয়ে আসছিলেন। অবশেষে, ২০২৫ সালে আদালতের চূড়ান্ত নোটিশ নিয়ে এবং পুলিশের সহায়তায় জমির মালিক তার সম্পত্তি ফিরে পেলেন।
নিঃস্ব বস্তিবাসী ও পুনর্বাসনের দাবি
বস্তি উচ্ছেদের ঘটনায় সেখানকার বাসিন্দারা বিপাকে পড়েছেন। তাদের অভিযোগ, কোনো ধরনের পূর্ব নোটিশ না দিয়েই হঠাৎ করে তাদের বাড়িঘর ভেঙে দেওয়া হয়েছে। একজন মহিলা বলেন, “মাথার ওপরের ছাদটা সরে গেল। আমরা ৫০ বছর ধরে এখানে স্থায়ীভাবে বসবাস করছি। বাচ্চাদের পড়াশোনা থেকে শুরু করে সব কিছুই এখন অনিশ্চিত।” অন্য এক বস্তিবাসী জানান, “তিল তিল করে আমরা এই বাড়িগুলো তৈরি করেছিলাম। এখন সব হারিয়ে আমরা নিঃস্ব হয়ে গেলাম।”
তবে পুলিশ এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী এই উচ্ছেদ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে।