আগামী শনিবার, ১৬ই মে পালিত হতে চলেছে সনাতন ধর্মাবলম্বী বিবাহিত মহিলাদের অন্যতম প্রধান উৎসব বট সাবিত্রী ব্রত। জ্যৈষ্ঠ মাসের অমাবস্যা তিথিতে এই ব্রত পালন করা হয়। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, এই দিনেই সতী সাবিত্রী তাঁর নিষ্ঠা ও শক্তির জোরে যমরাজের হাত থেকে স্বামী সত্যবানের প্রাণ ফিরিয়ে এনেছিলেন। এবছর এই ব্রতটি শনিবার পড়ায় এর গুরুত্ব কয়েক গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে, কারণ এই দিনেই শনি জয়ন্তীও উদযাপিত হবে। স্বামী ও সংসারের সার্বিক মঙ্গলে এই বিশেষ দিনে কোন বিষয়গুলো খেয়াল রাখা জরুরি, তা জেনে নিন।
পুজোর সময় জপ করুন এই শক্তিশালী মন্ত্র:
বট সাবিত্রী ব্রতের মূল কেন্দ্রবিন্দু হলো বটগাছ। শাস্ত্র মতে, বটগাছের শিকড়ে ব্রহ্মা, কান্ডে বিষ্ণু এবং উপরিভাগে শিব অবস্থান করেন। তাই বটগাছকে প্রদক্ষিণ করার সময় আপনার মনকে শান্ত রাখতে ও আশীর্বাদ পেতে নিচের মন্ত্রগুলি জপ করা অত্যন্ত ফলদায়ক:
বটগাছ প্রদক্ষিণ ও সুতো বাঁধার সময় জপ করুন— ‘ওম নমো ভগবতে বাসুদেবায়’ অথবা ‘ওম সতি সাবিত্র্যৈ নমঃ’।
অটুট সৌভাগ্য এবং দাম্পত্য সুখের কামনায় জপ করুন— ‘ওম সৌভাগ্য প্রদায়িণ্য নমঃ’।
এই মন্ত্রগুলি উচ্চারণের ফলে সংসারে ইতিবাচক শক্তি প্রবাহিত হয় এবং দেবী সাবিত্রীর আশীর্বাদে জীবনের বাধা-বিপত্তি দূর হয়।
ব্রতর দিনে খাদ্যাভ্যাস ও বিশেষ সতর্কতা:
জ্যৈষ্ঠের এই প্রচণ্ড গরমে নির্জলা উপবাস রাখা অনেকের পক্ষেই কঠিন হতে পারে। তবে এই ব্রতের পূর্ণ ফল পেতে খাদ্যাভ্যাসে কিছু বিধিনিষেধ মেনে চলা জরুরি:
১. তামসিক খাবার বর্জন: পুজোর আগে বা পরে ভুলেও পেঁয়াজ, রসুন বা আমিষ জাতীয় খাবার খাবেন না।
২. কী খাবেন: শরীরে শক্তি বজায় রাখতে দুধের সাথে তাজা ফল বা ড্রাই ফ্রুটস গ্রহণ করা যেতে পারে। শরীরকে হাইড্রেটেড রাখতে পর্যাপ্ত জল পান করুন।
৩. ভেজানো ছোলার মাহাত্ম্য: এই ব্রতে ভেজানো ছোলার প্রসাদ নিবেদনের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। পুজোর পর এই প্রসাদ গ্রহণ করা অত্যন্ত শুভ বলে মনে করা হয়।
৪. ভাজা খাবার এড়িয়ে চলুন: উপবাসের শেষে অতিরিক্ত তৈলাক্ত বা ভাজা খাবার খাবেন না, এতে অ্যাসিডিটি বা পেটের সমস্যা হতে পারে।
আপনার ভক্তি ও সঠিক নিয়ম পালনের মাধ্যমেই পূর্ণতা পায় এই পবিত্র ব্রত। ১৬ই মে শনি জয়ন্তীর এই মহালগ্নে বট সাবিত্রী ব্রত পালনের মাধ্যমে আপনার জীবন সুখ ও সমৃদ্ধিতে ভরে উঠুক— এই কামনাই করি।





