দিল্লির ভোটার তালিকা থেকে এক ধাক্কায় বাদ ৪৭ লক্ষ নাম! বড় পদক্ষেপ নির্বাচন কমিশনের

দিল্লি নির্বাচন অফিস সোমবার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছে। স্পেশাল ইন্টেনসিভ রিভিশন বা এসআইআর প্রক্রিয়ার অধীনে বাড়ি বাড়ি গিয়ে সুনির্দিষ্ট গণনার পর এই তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, শহরের মোট ১ কোটি ৪৫ লক্ষ নিবন্ধিত ভোটারের মধ্যে থেকে প্রায় ৪৭ লক্ষ মানুষের নাম নতুন খসড়া তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। প্রধান নির্বাচন আধিকারিক স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে সমস্ত নাগরিকদের নাম এই খসড়া তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি, তাঁরা আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ফর্ম ৬ পূরণ করে এবং প্রয়োজনীয় ও বৈধ নথিপত্র জমা দিয়ে নিজেদের নাম অন্তর্ভুক্ত করার জন্য আনুষ্ঠানিক দাবি পেশ করতে পারবেন। সব ধরনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর চূড়ান্ত ভোটার তালিকা আগামী ৪ নভেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে।

নির্বাচন কমিশনের সংশোধিত এবং চূড়ান্ত সময়সূচি অনুযায়ী, নাগরিকদের পক্ষ থেকে দাখিল করা দাবি ও আপত্তিগুলির পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করা হবে। এছাড়া নোটিশ জারি করা এবং সেই সংক্রান্ত সমস্ত বিরোধের নিষ্পত্তি করার আইনি প্রক্রিয়া আগামী ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্নভাবে চলবে। বর্তমানের খসড়া তালিকায় প্রায় ৯৭ লক্ষ ৫০ হাজার ভোটারকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যাদের সঠিক গণনার ফর্মগুলি এসআইআর প্রক্রিয়া চলাকালীন সফলভাবে সংগৃহীত ও ডিজিটাইজ করা হয়েছিল। উল্লেখ্য, গত ৩০ জুন এই বিশেষ যাচাইকরণ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল এবং তা ১৭ আগস্ট শেষ হয়। পরিসংখ্যান বলছে, দিল্লির মোট ১,৪৫,১০,২৯৯ জন ভোটারের মধ্যে প্রায় ৬৭.১৮ শতাংশ ভোটারের ফর্ম বা তথ্য সঠিকভাবে ডিজিটাইজ করা সম্ভব হয়েছে।

অন্যদিকে, বাকি থাকা প্রায় ৪৭ লক্ষ ভোটারকে নির্দিষ্ট কিছু ক্যাটাগরির অধীনে চিহ্নিত করা হয়েছে। এগুলিকে এএসডিডিও অর্থাৎ অনুপস্থিত, স্থানান্তরিত, মৃত, ডুপ্লিকেট এবং অন্যান্য শ্রেণীতে “তথ্য সংগ্রহ অযোগ্য” হিসেবে শ্রেণীবদ্ধ করা হয়েছে। সেই কারণেই নিয়মের বাধ্যবাধকতার জেরে তাঁদের নাম তাৎক্ষণিকভাবে খসড়া ভোটার তালিকায় স্থান পায়নি। দিল্লির ৭০টি বিধানসভা এলাকার ক্ষেত্রে ডিজিটাইজেশনের হারে ব্যাপক তারতম্য লক্ষ্য করা গেছে। এর মধ্যে রোহিনী বিধানসভা কেন্দ্রে ডিজিটাইজেশনের হার সবচেয়ে বেশি অর্থাৎ ৮৩.৪৩ শতাংশ রেকর্ড করা হয়েছে, পক্ষান্তরে তুগলকাবাদে এই হার সবচেয়ে কম ৫২.১৫ শতাংশ ছিল।