ঘরে ৯০ লক্ষের গয়না মিললেই কি সব আপনার? আয়কর ট্রাইব্যুনালের এই রায় বাঁচিয়ে দেবে আমজনতাকে!

বাসাবাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে লাখ লাখ টাকার সোনার গয়না উদ্ধার হওয়ার ঘটনা নতুন কিছু নয়। কিন্তু ঘরে বিপুল পরিমাণ মূল্যের অলংকার মিললেই যে তা সরাসরি সংশ্লিষ্ট করদাতার ব্যক্তিগত সম্পত্তি হিসেবে গণ্য করা যাবে না, সেই মর্মে এক ঐতিহাসিক ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রায় শুনিয়েছে আয়কর আপিল ট্রাইব্যুনাল (ITAT)। সাম্প্রতিক এক আইনি লড়াইয়ে ট্রাইব্যুনাল সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে, কেবল অলংকার উদ্ধারের বিষয়টিকেই চূড়ান্ত প্রমাণ হিসেবে ধরে নেওয়া যায় না। এর নেপথ্যে গয়নার আসল মালিকানা কার, তা অর্জনের আইনি উৎস কী, পারিবারিক আর্থ-সামাজিক পরিস্থিতি কেমন এবং সেই সংক্রান্ত সমস্ত প্রাসঙ্গিক নথিপত্র বা কাগজপত্র কতটা বৈধ—এই সমস্ত দিক পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখা বাধ্যতামূলক।

আলোচিত এই আইনি মামলাটি মূলত নির্মল কুমার আগরওয়ালের সঙ্গে জড়িত। এই ঘটনায় কর কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে তাঁর বাসভবন থেকে উদ্ধার হওয়া ৯০ লক্ষ ৫৯ হাজার টাকারও বেশি মূল্যের সোনা এবং গয়নাকে সম্পূর্ণভাবে নির্মল কুমার আগরওয়ালের নিজস্ব করযোগ্য সম্পদ বলে দাবি করা হয়েছিল। এমনকি তাঁর স্ত্রীর অধিকারে থাকা অলংকারগুলোকেও তাঁরই সম্পত্তির অন্তর্ভুক্ত করার কড়া চেষ্টা চালায় সংশ্লিষ্ট বিভাগ। কিন্তু আইটিএলের বেঞ্চ এই একপাক্ষিক ও যান্ত্রিক ধারণাকে সরাসরি খারিজ করে দিয়েছে। ট্রাইব্যুনালের পক্ষ থেকে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, একজন বিবাহিত নারীর ব্যক্তিগত মালিকানাধীন গয়না বা পারিবারিক ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে প্রাপ্ত অলংকারকে জোর করে স্বামীর অবঘোষিত বা বেনামি সম্পত্তি বলে দাগিয়ে দেওয়া আইনের চোখে সম্পূর্ণ অন্যায় ও অগ্রহণযোগ্য।

কর বিশেষজ্ঞদের মতে, এই যুগান্তকারী রায় দেশজুড়ে চলমান বহু পুরনো ও জটিল কর বিরোধের অবসান ঘটাতে অত্যন্ত বড় ভূমিকা পালন করবে। সাধারণত দেখা যায়, তল্লাশির সময় মহিলাদের দীর্ঘদিনের সঞ্চিত বা পৈতৃক সূত্রে পাওয়া গয়না বাজোপ্ত করে সেগুলোকে বাড়ির পুরুষ কর্তার ওপর চাপিয়ে দেওয়ার প্রবণতা থাকে ট্যাক্স অফিসারদের মধ্যে। কিন্তু এই রায়ের ফলে এখন থেকে করদাতারা আরও শক্তিশালী আইনি সুরক্ষা পাবেন। আদালত বা ট্রাইব্যুনাল নিশ্চিত করেছে যে, কর ফাঁকি বা বেনামি সম্পত্তির অভিযোগ তোলার আগে তদন্তকারী সংস্থাকে অবশ্যই নিরেট তথ্যপ্রমাণ হাজির করতে হবে। স্রেফ ঘরে সোনা বা হিরে পাওয়ার অজুহাতে কাউকে অপরাধী সাব্যস্ত করা যাবে না। এই রায় সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবার এবং করদাতাদের জন্য এক বিরাট স্বস্তির নিঃশ্বাস নিয়ে এসেছে, যা ভবিষ্যতে কর সংক্রান্ত আইনি লড়াইয়ের ক্ষেত্রে একটি শক্তিশালী নজির হিসেবে পরিগণিত হবে।