আপনার জন্মবর্ষে কোন হেয়ারস্টাইলে মেতেছিল দুনিয়া? টাইম মেশিনে ফিরে দেখুন রেট্রো ফ্যাশনের ম্যাজিক!

ফ্যাশনের চাকা যতই ঘুরুক না কেন, আমাদের মাথার চুল ইতিহাসের প্রতিটি যুগের এক একটি জীবন্ত সাক্ষী হয়ে থাকে। দশক বদলানোর সঙ্গে সঙ্গে সৌন্দর্য এবং চুলের স্টাইলের সংজ্ঞাও সম্পূর্ণ বদলে গেছে। সত্তরের দশকের অগোছালো স্বাভাবিক লুক, আশির দশকের জমকালো ভলিউম, কিংবা নব্বইয়ের দশকের গ্ল্যামারাস হেয়ারকাট—প্রতিটি যুগেরই নিজস্ব একটি সিগনেচার স্টাইল ছিল। আপনি কি কখনো ভেবে দেখেছেন, আপনার জন্মের বছরটায় রাস্তায় বা পার্টিতে মানুষ ঠিক কী ধরনের হেয়ারকাট নিয়ে মেতে থাকত? চলুন, আজ অতীতে ফিরে গিয়ে আপনার জন্ম বছরের সবচেয়ে বিখ্যাত এবং আইকনিক হেয়ারস্টাইলগুলো সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক।

১৯৭০ থেকে ১৯৭৯ সাল পর্যন্ত সময়টা ছিল স্বাধীনতা এবং স্বাভাবিক ভাবের যুগ। এই দশকের গোড়ার দিকে ‘শ্যাগ’ (Shag) কাট দারুণ জনপ্রিয়তা লাভ করে। এতে ছোট ও লম্বা চুলের একাধিক স্তর থাকত, যা চুলে একটি অগোছালো অথচ দারুণ আকর্ষণীয় রূপ এনে দিত। পাশাপাশি, ১৯৭৬ সালের দিকে জনপ্রিয় টিভি শো ‘চার্লিস অ্যাঞ্জেলস’-এর তারকা ফারাহ ফসেটের হাত ধরে ‘ফেদারড হেয়ারকাট’ বিশ্বজুড়ে ঝড় তোলে। বাইরের দিকে আঁচড়ানো লেয়ার এবং ঘন চুলের এই স্টাইল সেসময় নারীদের প্রথম পছন্দ ছিল।

আশির দশকের মূল মন্ত্র ছিল “চুল যত বড়, ফ্যাশন তত ভালো।” এই যুগে হেয়ারস্প্রে এবং চুলে অতিরিক্ত ভলিউম রাখার চল ছিল। “সামনেটা কাজের, পেছনটা পার্টির”—এই প্রবাদটি বিখ্যাত ‘মালেট’ (Mullet) কাটের জন্য তৈরি হয়েছিল। মাথার সামনের অংশ ছোট এবং পেছনের অংশ লম্বা রাখার এই স্টাইল পুরুষ ও নারী উভয়ের মাঝেই আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। এছাড়া, সোজা চুলকে কোঁকড়ানো ও ঘন করার জন্য ‘পার্ম’ করার চলও ছিল তুঙ্গে।

নব্বইয়ের দশকে ভারী চুলের স্টাইলকে বিদায় জানিয়ে মসৃণ ও বাহুল্যবর্জিত সাজের পথ চলা শুরু হয়। আমেরিকান শো ‘ফ্রেন্ডস’-এর কল্যাণে জেনিফার অ্যানিস্টনের ‘দ্য র‍্যাচেল’ (The Rachel) কাট ইতিহাসের অন্যতম সেরা হেয়ারস্টাইল হয়ে ওঠে। কাঁধ পর্যন্ত লম্বা এই লেয়ার কাটটি তরুণীদের স্বপ্নের স্টাইল ছিল। অন্যদিকে, উইনোনা রাইডার ও হ্যালি বেরির হাত ধরে সাহসী ‘পিক্সি কাট’ ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। নতুন শতকের শুরুতে (Y2K) চুলে মোটা স্ট্রিপের ‘চাংকি হাইলাইটস’ এবং ভিক্টোরিয়া বেকহ্যামের ‘অ্যাসিমেট্রিক্যাল বব’ ফ্যাশন দুনিয়ায় রাজত্ব করেছে। ফ্যাশনের নিয়ম মেনেই আজকের দিনেও পুরনো সেই স্টাইলগুলো নতুন আঙ্গিকে ঘুরে ফিরে আসছে।