মমতার নেতৃত্বেই বাংলায় লড়বে কংগ্রেস? তৃণমূলে ভাঙনের মাঝেই বড় প্রস্তাব অধীরের!

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ফের কংগ্রেসে ফিরে আসার জন্য সরাসরি আহ্বান জানালেন কংগ্রেস নেতা অধীররঞ্জন চৌধুরী। তৃণমূল কংগ্রেস যখন প্রতিষ্ঠার পর থেকে নিজেদের সবচেয়ে গভীর সাংগঠনিক সংকটের মোকাবিলা করছে, ঠিক সেই সময়েই অধীরের তরফে এই বার্তা এল। বৃহস্পতিবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্দেশে অধীর বার্তা দেন, তাঁর অবশিষ্ট বিধায়ক ও সাংসদদের নিয়ে ফের পুরনো দলে ফিরে আসা উচিত। অধীরের কথায়, “পশ্চিমবঙ্গের জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্ব মেনে নিতে কংগ্রেস প্রস্তুত।”
বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর থেকেই রাজ্যের শাসকদলের অন্দরে অস্থিরতা শুরু হয়। দলের বিধায়ক ও সাংসদদের একটি বড় অংশের মধ্যে প্রকাশ্য বিদ্রোহ দেখা দেয়। দলের ভাঙনের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে প্রাক্তন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী জানান, এই মুহূর্তে আলাদা কোনো সত্তার প্রয়োজন নেই। বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর তৃণমূলে আর বিশেষ কিছু অবশিষ্টও নেই বলেই তাঁর দাবি।
প্রায় তিন দশক আগে কংগ্রেসের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তৃণমূল কংগ্রেস গঠন করেছিলেন। এদিন সেই প্রসঙ্গ টেনে অধীর বলেন, “আমরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে আবেদন জানাব, তিনি যেন তাঁর অবশিষ্ট বিধায়ক ও সাংসদদের নিয়ে কংগ্রেসে যোগ দেন। বাংলায় আমরা তাঁর নেতৃত্ব মেনে নেব এবং তাঁর সঙ্গেই কাজ করব।”
উল্লেখ্য, শেষ বিধানসভা ভোটে ২৯৪ আসনের বিধানসভায় তৃণমূল ৮০টি আসন পেয়েছিল এবং বিজেপি বৃহত্তম দল হিসেবে উঠে আসে। তবে নির্বাচনের ফলাফলের কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই তৃণমূলের পরিষদীয় দলে বড় রকমের ভাঙন ধরে। ৫৮ জন বিদ্রোহী বিধায়ক বহিষ্কৃত নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা হিসেবে সমর্থন জানান এবং বিধানসভার স্পিকার সেই বিদ্রোহী গোষ্ঠীকে স্বীকৃতিও দেন।
এই বিদ্রোহের পাশাপাশি তৃণমূলের সংসদীয় দলেও অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। বিদ্রোহী সাংসদরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বের বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন। বিধানসভা ও সংসদে একই সঙ্গে ঘটা এই ভাঙন নির্বাচন-পরবর্তী মতপার্থক্যকে দলের অস্তিত্ব ও ভবিষ্যৎ নিয়ে এক বৃহত্তর সাংগঠনিক লড়াইয়ে পরিণত করেছে।
সম্প্রতি ইন্ডিয়া জোটের বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের যোগ দেওয়ার পরই অধীরের তরফে এই তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য এসেছে। লোকসভার প্রাক্তন বিরোধী দলনেতা মমতাকে নিজের রাজনৈতিক বোঝা বা বাড়তি ভার পিছনে ফেলে কংগ্রেসে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানান। অধীরের এই বক্তব্যের মাধ্যমে মূলত মমতার ভাইপো তথা তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কেই ইঙ্গিত করা হয়েছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অধীরের এই প্রস্তাবের মধ্যে এক ধরনের রাজনৈতিক পরিহাস রয়েছে। ১৯৯৮ সালে কংগ্রেসের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেই যে দলের জন্ম হয়েছিল, আজ গভীর সংকটের মুখে দাঁড়িয়ে সেই দলেই ফের ফিরে আসার বার্তা রাজনৈতিক মহলে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।