দিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলনে আসছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান! হাসিনার প্রত্যর্পণ নিয়ে কি বড় মোড়?

আগামী সেপ্টেম্বর মাসে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত হতে চলা মর্যাদাপূর্ণ ব্রিকস (BRICS) গোষ্ঠীর শীর্ষ সম্মেলনের বিশেষ অধিবেশনে যোগ দেওয়ার জন্য বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানাল নরেন্দ্র মোদি সরকার। বিমস্টেক (BIMSTEC)-এর চেয়ার হিসেবে ভারত আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর এই মেগা সামিটের আয়োজন করছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের ধারণা, এই দ্বিপাক্ষিক সফরে এসে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ভারতের সঙ্গে বৈঠকে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করতে পারেন।
ব্রিকস সম্মেলনে বিশেষ আমন্ত্রণ
মঙ্গলবার বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এক প্রেস ব্রিফিংয়ে জানান, গত ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ার পর এবার তারেক রহমানকে ভারতে আসার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। ব্রিকস গোষ্ঠীর আউটরিচ সেশনের চিরাচরিত রীতি এবং আঞ্চলিক গোষ্ঠীগুলির শীর্ষ নেতাদের অংশগ্রহণের প্রথা মেনেই তাঁকে এই আমন্ত্রণ পাঠানো হয়েছে।
এই বিশেষ অধিবেশনে পশ্চিম এশিয়ার চলমান সংকট, বিশ্ব অর্থনৈতিক অবস্থার অবনতি এবং একাধিক জটিল আন্তর্জাতিক চ্যালেঞ্জ নিয়ে বিশ্বনেতাদের মধ্যে বিস্তারিত আলোচনার সম্ভাবনা রয়েছে।
কারা আসছেন এই সম্মেলনে?
ভারত ছাড়াও ব্রিকস গোষ্ঠীভুক্ত অন্যান্য দেশগুলির শীর্ষ নেতৃত্ব এই সম্মেলনে যোগ দেবেন। বর্তমান সদস্য দেশগুলির তালিকায় রয়েছে—
ব্রাজিল, চীন, ইজিপ্ট, ইথিওপিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ইরান, রাশিয়া, সৌদি আরব, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহী।
ফলে আশা করা হচ্ছে যে, এই শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের মতো হেভিওয়েট বিশ্বনেতারাও নয়াদিল্লিতে উপস্থিত থাকবেন।
হাসিনার প্রত্যর্পণ নিয়ে জল্পনা
তারেক রহমানের এই সম্ভাব্য ভারত সফর ঘিরে ইতিমধ্যেই কূটনৈতিক মহলে তীব্র জল্পনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ সংক্রান্ত বিষয়গুলো নিয়ে দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে কোনো উচ্চপর্যায়ের আলোচনা হয় কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।