দিল্লিতে পেলেট গান কাণ্ডে নাটকীয় মোড়! এফআইআরের দাবিতে সোজা থানায় ধর্নায় বসলেন খোদ রাহুল গান্ধী

দিল্লিতে প্রতিবাদ চলাকালীন ছররা গুলি ব্যবহারের গুরুতর অভিযোগকে কেন্দ্র করে ফের উত্তাল হয়ে উঠেছে জাতীয় রাজনীতি। এই হাই-প্রভাইল ইস্যুতে এবার সরাসরি থানায় ধর্নায় বসে পড়েছেন কংগ্রেস সাংসদ তথা লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। পুলিশ এই ঘটনায় এফআইআর (FIR) রুজু করতে অস্বীকার করায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়েছে। ছররা গুলির শিকার হওয়া ১৯ বছর বয়সি তরুণ সাহিল লোচাবকে সঙ্গে নিয়ে পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় এক পুলিশ আধিকারিকের কার্যালয়ের বাইরে অবস্থান বিক্ষোভে বসেছেন তিনি।

ঘটনার সূত্রপাত রাজধানীতে চলা একটি ছাত্র আন্দোলনকে কেন্দ্র করে, যেখানে বিক্ষোভ দমনের নামে অতিরিক্ত ও অনুপাতহীন বলপ্রয়োগের অভিযোগ ওঠে। সেই সময় ছররা গুলিতে মারাত্মকভাবে আহত হন সাহিল লোচাব। এর আগে জুলাই মাসেই সংবাদমাধ্যমের সামনে সাহিলকে নিয়ে এসেছিলেন রাহুল এবং তাঁর শরীরে থাকা আঘাতের চিহ্নগুলি সাংবাদিকদের দেখিয়েছিলেন। এমনকি এই ঘটনা নিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে আগেই চিঠি দিয়েছিলেন রাহুল। শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলনরত ছাত্রদের উপর এই ধরনের হামলার জন্য দায়বদ্ধতা নির্ধারণের দাবি জানিয়ে তিনি প্রশ্ন তুলেছিলেন, তরুণদের বিরুদ্ধে পেলেট বন্দুকের মতো লেঠেল বাহিনী মোতায়েনের অনুমতি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিয়েছিলেন কি না।

অন্যদিকে, পুলিশের তরফে রাহুলকে জানানো হয়েছে যে ছাত্র বিক্ষোভের সময় পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে সুপ্রিম কোর্ট একটি উচ্চপর্যায়ের বিশেষজ্ঞ কমিটি (HPEC) গঠন করেছে। তবে সেই যুক্তিতে পিছু হটতে নারাজ কংগ্রেস নেতা। তাঁর সাফ বক্তব্য, একটি নির্দিষ্ট অপরাধমূলক ঘটনায় আলাদাভাবে এফআইআর দায়ের করার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে এবং সেই আইনি প্রক্রিয়া কোনোভাবেই এড়ানো যায় না। মামলা নথিভুক্ত না হওয়া পর্যন্ত তিনি অবস্থান থেকে সরবেন না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

ধরনাস্থলে উপস্থিত থেকে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রাহুল গান্ধী তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি সাহিলের দিকে ইঙ্গিত করে জানান, তেরঙা হাতে অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ করার সময় তাঁর এই ভাই পেলেটের আঘাতে মারাত্মকভাবে জখম হয়েছেন। এরপর সংবাদমাধ্যমের সামনে সাহিলের টি-শার্ট তুলে তাঁর শরীরের ক্ষতচিহ্নও দেখান বিরোধী দলনেতা।

বিরোধী দলনেতার এই সরাসরি থানায় বসে পড়ার পদক্ষেপে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর চাপ আরও বহুগুণ বেড়ে গেছে। ঘটনার জেরে পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানা চত্বরে ব্যাপক পুলিশি নিরাপত্তা ও তৎপরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রশাসনের শীর্ষ স্তরেও আলোচনা শুরু হয়েছে। এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জোরালো হচ্ছে।