দিলীপ ঘোষের মুখে ‘মধু’ মন্তব্য! তোলাবাজির বিরুদ্ধে কড়া বার্তা দিয়ে অস্বস্তিতে শাসক দল?

রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর নতুন সরকারের তিন মাস অতিক্রান্ত হতে না হতেই বড় প্রশ্নচিহ্নের মুখে পড়েছে প্রশাসনিক শৃঙ্খলা। পরিবর্তনের পর নতুন সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স নীতি’ গ্রহণের জোরালো ঘোষণা করলেও, দলের অন্দরের কিছু বিক্ষিপ্ত ঘটনা ও নেতার বক্তব্য অন্য ইঙ্গিত দিচ্ছে। তোলাবাজি ও সিন্ডিকেট সংস্কৃতি রোখার ক্ষেত্রে দলের শীর্ষ নেতৃত্বকে বারবার কঠোর বার্তা দিতে দেখা যাচ্ছে, যা নিয়ে বিরোধীদের পাশাপাশি রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে জোরদার চর্চা।

গত ৪৮ ঘণ্টার রাজনৈতিক চিত্রে দেখা গেছে, তোলাবাজি রুখতে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য একের পর এক কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছেন। একই সুরে সরব হয়েছেন রাজ্যের দুই হেভিওয়েট মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ এবং অগ্নিমিত্রা পাল। দলের অন্দরে চলতে থাকা এই অসন্তোষ ও তোলাবাজির দৌরাত্ম্য নিয়ে খোদ পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়নমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ এক বিস্ফোরক মন্তব্য করে বসেন। তিনি সরাসরি বলেন যে, তাদের দলের বহু নেতাই তোলাবাজির মধুতে আসক্ত হয়ে পড়েছেন। অন্যদিকে, রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যও অকপটে স্বীকার করে নেন যে রাতারাতি সমস্ত সমস্যার সমাধান করা সম্ভব হয়নি। তিনি জানান, কোথাও না কোথাও বিচ্যুতি এখনও রয়ে গেছে এবং দল সব জায়গায় এক ধাক্কায় এই অপরাধমূলক প্রবণতা সম্পূর্ণ বন্ধ করতে পারেনি।

নেতা ও কর্মীদের এই দৌরাত্ম্য থামাতে রাজ্য সভাপতি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন যে, প্রোমোটারদের সঙ্গে কোনো রকম অবৈধ যোগাযোগ রাখলে দল তাকে বিন্দুমাত্র ছাড়বে না। তিনি সতর্ক করে দেন যে, সে পুলিশ হোক কিংবা দলের কোনো প্রভাবশালী নেতা—কাউকে কোনো প্রকার সুরক্ষা দেওয়া হবে না। যদি কেউ মিউনিসিপ্যালিটি অফিসে যাতায়াত বাড়িয়ে অনৈতিক সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে, তবে দল কঠোর প্রশাসনিক ও সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেবে। সরকার নিজের মতো পদক্ষেপ করবে, কিন্তু দল কোনো অপরাধীকে প্রশ্রয় দেবে না।

এই পুরো পরিস্থিতিকে হাতিয়ার করে আসরে নেমেছে বিরোধী শিবির। শাসক দলের অন্দরের এই স্বীকারোক্তি ও কড়া বার্তাকে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি ‘কালীঘাট তৃণমূল’। তৃণমূলের পক্ষ থেকে প্রশ্ন তোলা হয়েছে যে, সরকারের বয়স সবেমাত্র তিন মাস হয়েছে, অথচ এর মধ্যেই শীর্ষ নেতৃত্বকে বারবার বলতে হচ্ছে—তোলাবাজি বন্ধ করুন। বিরোধীদের দাবি, এর মাধ্যমেই প্রমাণিত হচ্ছে যে বিজেপির একটা বড় অংশ এই তোলাবাজির সংস্কৃতিতে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে গেছে। তাদের আরও অভিযোগ, আগের আমলে যারা এই ধরনের অপকর্মের সঙ্গে যুক্ত ছিল, বর্তমান ব্যবস্থাতেও তারা একই কায়দায় তোলা আদায় করে চলেছে।

পরিবর্তন এলেও সাধারণ মানুষের মনে এখন একটাই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে—তাহলে কি তোলাবাজির পুরোনো অসুখ কাটেনি? তৃণমূল আমলের মতো বর্তমান কালেও কি সিন্ডিকেট এবং কাটমানির দৌরাত্ম্য বহাল তবিয়তে জারি রয়েছে? নতুন সরকারের আমলে দুর্নীতির শিকড় কি উপড়ে ফেলা সম্ভব হবে, নাকি এই সমস্ত অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ ও বিরোধী আক্রমণ বর্তমান সরকারের রাজনৈতিক অস্বস্তি আরও বাড়িয়ে তুলবে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।