‘দিমাগি নকশাল’ আসলে কারা? লালকেল্লার মন্তব্য ঘিরে বিতর্কের ঝড়ের মাঝেই সাফাই দিলেন কিরেন রিজিজু!

স্বাধীনতার ৮০তম বর্ষপূর্তিতে লালকেল্লার প্রাকার থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর করা ‘দিমাগি নকশাল’ (Dimagi Naxal) মন্তব্য ঘিরে জাতীয় রাজনীতিতে তৈরি হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক। দেশজুড়ে যখন এই শব্দবন্ধ নিয়ে বিরোধী শিবির থেকে নানা সমালোচনা ও কটাক্ষ শুরু হয়েছে, ঠিক তখনই আসরে নেমে স্পষ্ট সাফাই দিলেন কেন্দ্রীয় সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু।

The New Indian Express

ঠিক কী বলেছেন কিরেন রিজিজু?

ANI News

রবিবার সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেল এক্স-এ (যেটি পূর্বে টুইটার নামে পরিচিত ছিল) একটি পোস্ট করে কিরেন রিজিজু পরিষ্কার ভাষায় জানান যে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী কখনই বিরোধী দলের নেতাদের ‘দিমাগি নকশাল’ বলেননি। মন্ত্রীর দাবি, এই মন্তব্য রাজনৈতিক বিরোধীদের উদ্দেশ্যে করা হয়নি; বরং এটি করা হয়েছে সেই সমস্ত শক্তির বিরুদ্ধে যারা দেশের সাংবিধানিক কাঠামোর মূলে আঘাত হানতে চায়।

Indiatimes+ 2

রিজিজু তাঁর পোস্টে নির্দিষ্ট কয়েকটি পয়েন্ট তুলে ধরে জানান যে, মূলত কারা এই সংজ্ঞার আওতায় পড়েন— ১. যারা মাওবাদীদের সমর্থন করেন এবং ভারতের সংবিধানকে স্বীকার করেন না। ২. যারা বিচ্ছিন্নতাবাদীদের পাশে দাঁড়ান এবং ৩৭০ ধারা বহাল রাখার পক্ষে সওয়াল করেন। ৩. যারা উত্তর-পূর্ব ভারতকে দেশের বাকি অংশ থেকে বিচ্ছিন্ন করতে ‘চিকেনস নেক’ (Chicken’s Neck) করিডোর কেটে দেওয়ার কথা বলেন।

ANI News+ 4

লালকেল্লার ভাষণে কী বলেছিলেন প্রধানমন্ত্রী?

ANI News

এর আগে শনিবার দেশের ৮০তম স্বাধীনতা দিবসে লালকেল্লা থেকে জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দেশে সশস্ত্র নকশালবাদ (‘হথারিয়া নকশাল’) দমনের ঐতিহাসিক সাফল্যের কথা তুলে ধরেছিলেন। তিনি বলেন, জঙ্গলে অস্ত্র হাতে নেওয়া নকশালদের কোণঠাসা করা সম্ভব হলেও, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে এখনও ‘দিমাগি নকশাল’ বা নকশাল মানসিকতার মানুষেরা ঘাপটি মেরে বসে রয়েছে। এই চিন্তাধারার মানুষেরা সুযোগ খুঁজছে এবং দেশকে ভুল পথে চালিত করার চেষ্টা করছে বলে সতর্ক করেন তিনি। দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ও যুবসমাজকে রক্ষা করতে এই মানসিকতার মানুষদের চিহ্নিত করে একঘরে করার ডাক দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী।

ANI News+ 1

কংগ্রেসের তীব্র প্রতিক্রিয়া

প্রধানমন্ত্রীর এই মন্তব্যের পরই কড়া ভাষায় আক্রমণ শানিয়েছে প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস। কংগ্রেসের বর্ষীয়ান নেতা তথা রাজ্যসভার সাংসদ জয়রাম রমেশ এই মন্তব্যকে স্রেফ একটি ‘ফাঁপা রাজনৈতিক বুলি’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। অতীতের ‘শহুরে নকশাল’ (Urban Naxal) বিতর্কের প্রসঙ্গ টেনে তিনি অভিযোগ করেন, সরকার প্রথমে সমালোচকদের বদনাম করার জন্য এই ধরনের শব্দ ব্যবহার করে, অথচ পরবর্তীতে বিরোধীদের দাবিগুলোই শেষ পর্যন্ত তাদের মেনে নিতে হয়। এছাড়া প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পি চিদাম্বরম সহ একাধিক বিরোধী নেতাও এই মন্তব্যকে ঘিরে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন। সব মিলিয়ে স্বাধীনতা দিবসের মঞ্চ থেকে দেওয়া এই নতুন শব্দবন্ধকে কেন্দ্র করে চড়ছে রাজনৈতিক পারদ।

Hindustan Times+ 2