এসির বিল নির্ভর করে আপনি কত ‘টন’-এর এসি চালাচ্ছেন এবং তার স্টার রেটিং কত, তার ওপর। ধরা যাক আপনার কাছে একটি ১.৫ টনের ৩-স্টার ইনভার্টার এসি রয়েছে।
বিদ্যুৎ খরচ (Consumption): একটি ১.৫ টনের ৩-স্টার এসি গড়ে প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ১.৫ ইউনিট (Unit) বিদ্যুৎ টানে। তবে ইনভার্টার এসি হলে ঘর ঠান্ডা হওয়ার পর এই খরচ কমে গিয়ে ১ ইউনিটের নিচে চলে আসে।
দৈনিক খরচ: দিনে ৬ ঘণ্টা চালালে আপনার খরচ হবে প্রায় ৬ থেকে ৭ ইউনিট বিদ্যুৎ।
মাসিক খরচ: মাসে ৩০ দিন ৬ ঘণ্টা করে এসি চললে মোট ইউনিটের খরচ দাঁড়াবে ১৮০ – ২১০ ইউনিট।
টাকায় হিসাব: পশ্চিমবঙ্গে সিইএসসি (CESC) বা ডব্লিউবিএসইডিসিএল (WBSEDCL)-এর গড় রেট অনুযায়ী যদি প্রতি ইউনিটের দাম ৭ টাকা ধরা হয়, তবে মাসে কেবল এসির জন্য বিল আসবে ১,২৬০ টাকা থেকে ১,৪৭০ টাকা। (আপনার বাড়ির অন্যান্য ফ্যান, লাইট বা ফ্রিজের বিল এর অতিরিক্ত)।
স্টার রেটিং-এর পার্থক্য: বাঁচবে কত টাকা?
| এসির ধরন | দৈনিক খরচ (৬ ঘণ্টা) | মাসিক বিল (গড়ে) |
| ১.৫ টন ৩-স্টার | ৭ ইউনিট | ₹১,৪৭০ |
| ১.৫ টন ৫-স্টার | ৫ ইউনিট | ₹১,০৫০ |
সহজ কথা: ৫-স্টার এসি ব্যবহার করলে প্রতি মাসে আপনি প্রায় ৪০০-৫০০ টাকা পর্যন্ত বিল সাশ্রয় করতে পারেন।
বিল কমানোর ৩টি ‘মাস্টার’ টিপস
আপনি যদি এসির বিল আরও কমাতে চান, তবে এই নিয়মগুলো মেনে চলুন:
১. তাপমাত্রা সেট করুন ২৪-২৬°C-এ: এসি ১৮ বা ১৬ ডিগ্রিতে চালালে কমপ্রেসর দীর্ঘক্ষণ পূর্ণ শক্তিতে চলে, যা বিল বাড়িয়ে দেয়। ২৪ ডিগ্রিতে চালালে ঘর আরামদায়ক থাকে এবং বিল ২৫% পর্যন্ত কমে।
২. সিলিং ফ্যান চালান: এসির সাথে হালকা স্পিডে সিলিং ফ্যান চালালে ঠান্ডা হাওয়া পুরো ঘরে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে, ফলে ঘর দ্রুত ঠান্ডা হয় এবং এসি অটোমেটিক মোডে চলে যায়।
৩. দরজা-জানলার ফাঁক বন্ধ করুন: ঘরের দরজা-জানলা ঠিকমতো বন্ধ না থাকলে বা পর্দা টানা না থাকলে বাইরের গরম হাওয়া ভেতরে ঢোকে। এতে এসিকে ঘর ঠান্ডা করতে দ্বিগুণ খাটতে হয়।
ক্লিন ফিল্টার: ফ্রি-তে বিল কমানোর উপায়
অনেকেই ফিল্টার পরিষ্কার করেন না। এসির ফিল্টারে ধুলো জমলে হাওয়া টানতে কষ্ট হয়, ফলে বিল বাড়ে। প্রতি ১৫ দিন অন্তর ফিল্টার ধুয়ে পরিষ্কার রাখলে বিল ৫-১০% কমানো সম্ভব।
মনে রাখবেন: এসির বিল কেবল খরচের বিষয় নয়, সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ করলে আপনি আরামও পাবেন আর পকেটও সুরক্ষিত থাকবে। এই গরমে সুস্থ থাকুন, কিন্তু হিসাব কষে এসি চালান!





