দিনরাত শুধু ‘ওটা’ চাই, প্রেমিকার চাহিদা মেটাতে গিয়ে চরম পদক্ষেপ যুবকের! কি ঘটেছিল?

পরকীয়ার সম্পর্ক থেকে সৃষ্টি হওয়া ঋণের বোঝা সামলাতে না পেরে অবশেষে আত্মহত্যার পথ বেছে নিলেন এক বিবাহিত যুবক। ঘটনাটি ঘটেছে উত্তরপ্রদেশের বারাণসীর সারনাথ এলাকার হাভেলিয়া গ্রামে। মৃত যুবকের নাম মুন্না লাল মৌর্য (৩৮)। তিনি তার প্রেমিকা বাসন্তী-র আর্থিক চাহিদা মেটাতে গিয়ে চরম ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েছিলেন।

পারিবারিক জীবন ও সম্পর্কের জটিলতা
মুন্নার পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, মুন্নার তার স্ত্রী চঞ্চলার সঙ্গে কোনো পারিবারিক অশান্তি ছিল না। তার স্ত্রীও তাদের বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক সম্পর্কে অবগত ছিলেন না। পরিবারের সবাই জানত যে মুন্না ঋণের বোঝায় জর্জরিত এবং মানসিক চাপে ভুগছেন। কিন্তু কেউ কল্পনাও করতে পারেননি যে এর জেরে তিনি এমন চরম পদক্ষেপ নেবেন।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মুন্না প্রতিবেশী এক বাড়িতে রুপোর গয়না তৈরির কাজ করতেন। সেখানেই বাসন্তী নামের ওই মহিলার সঙ্গে তার পরিচয় হয়। বাসন্তীর স্বামী সাত বছর আগে মারা গিয়েছিলেন। এরপর থেকেই মুন্না ও বাসন্তীর মধ্যে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বাসন্তী আর্থিক সমস্যায় ভুগছিলেন এবং টাকার জন্য মুন্নাকে ক্রমাগত চাপ দিতেন। বাসন্তীর চাহিদা মেটাতে মুন্না বিভিন্ন জায়গা থেকে ঋণ নিয়েছিলেন, কিন্তু সেই ঋণ শোধ করতে পারছিলেন না।

আত্মহত্যার দিনের ঘটনা
মুন্নার দাদা রাজেন্দ্র মৌর্য জানান, গত বৃহস্পতিবার সকালে মুন্না তার প্রেমিকা বাসন্তীর বাড়িতে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে বাড়ি ফিরে এসে তিনি নিজের বাড়িতে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেন। মুন্নার স্ত্রী চঞ্চলা রান্নাঘরের কাজ সেরে ঘরের দরজা বন্ধ করতে গিয়ে দেখেন, ভেতর থেকে দরজা বন্ধ। পাশেই তার স্বামীর চটি পড়ে আছে। এতে তার সন্দেহ হয়। পরে তিনি জানালা দিয়ে উঁকি দিয়ে দেখেন তার স্বামী ঝুলন্ত অবস্থায় রয়েছে। এরপর তিনি পুলিশকে খবর দেন।

পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মুন্নার ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করে। ফরেন্সিক দল ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন নমুনা সংগ্রহ করেছে এবং দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলেই মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। পুরো ঘটনার তদন্ত চলছে।

এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করল যে, পরকীয়ার মতো সম্পর্ক কীভাবে জীবনের চরম পরিণতি ডেকে আনতে পারে।