১০০ কোটির হ্রদের জমি হাতিয়ে নেওয়ার ভয়ঙ্কর জালিয়াতি! কর্নাটকে সরকারি জমি কেলেঙ্কারিতে নাম জড়াল বড় কর্তাদের!

কর্নাটকের চিক্কাবল্লাপুর জেলায় এক চাঞ্চল্যকর এবং গুরুতর দুর্নীতির ঘটনা সামনে এসেছে, যেখানে জাল নথিপত্র তৈরি করে একটি বিশাল সরকারি হ্রদের জমি অন্য এক ব্যক্তির নামে অবৈধভাবে হস্তান্তর করার অভিযোগ উঠেছে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, সংশ্লিষ্ট হ্রদটির প্রায় ২৪ একর জমি সরাসরি রাজস্ব বিভাগের এখতিয়ারভুক্ত এবং এটি কোনোভাবেই পৌর সংস্থার আওতাধীন নয়। এই বিপুল পরিমাণ সরকারি জমির বর্তমান বাজার মূল্য ১০০ কোটি টাকারও বেশি বলে অনুমান করা হচ্ছে, যা নিয়ে বর্তমানে রাজ্যজুড়ে তীব্র রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক শোরগোল পড়ে গিয়েছে।
পুরো ঘটনাটির সূত্রপাত চিক্কাবল্লাপুর তালুকের কাসাবা হোবলির আঙ্কানুর গ্রামের ১০৯ নম্বর জরিপ সংক্রান্ত জমিকে কেন্দ্র করে। জানা গেছে, ওই এলাকার প্রায় ২৪ একর জমি ‘আমানিগোপালকৃষ্ণ কেরে’ নামক সরকারি হ্রদের অন্তর্গত এবং সরকারি নথিতে এটি সম্পূর্ণভাবে সংরক্ষিত জমি হিসেবেই নিবন্ধিত রয়েছে। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে যে, ক্ষমতার অপব্যবহার করে কিছু অসাধু কর্মকর্তা নিজেদের এখতিয়ারের সম্পূর্ণ বাইরে গিয়ে অত্যন্ত সুকৌশলে জাল দলিল বা নথি তৈরি করেছেন এবং এই বহুমূল্য সরকারি জমি সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত মালিকানায় হস্তান্তর করে দিয়েছেন।
এই কেলেঙ্কারির নেপথ্যে একাধিক প্রভাবশালী প্রশাসনিক কর্মকর্তার নাম জড়িয়ে পড়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই অবৈধ কর্মকাণ্ডে পৌর কমিশনার মনসুর আলী, কর আদায়কারী কর্মকর্তা ভেঙ্কটেশ, রাজস্ব পরিদর্শক ভি.আর. ভেঙ্কটেশ এবং অবসরপ্রাপ্ত রাজস্ব কর্মকর্তা নটরাজের সরাসরি ভূমিকা ও সংশ্নিষ্টতা প্রকাশ পেয়েছে। সংবাদমাধ্যম টিভি৯ এই বিষয়ে একটি বিস্তারিত ও চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদন সম্প্রচার করার পরই বিষয়টি সর্বসমক্ষে আসে। এই বিস্ফোরক প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে চিক্কাবল্লাপুরের ডেপুটি কমিশনার প্রভু জি অবিলম্বে একটি উচ্চপর্যায়ের বিশেষ তদন্ত দল গঠন করেন। পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত শেষে সেই দল ডেপুটি কমিশনারের কাছে বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা দেয়। রিপোর্টে সমস্ত অনিয়ম ও জালিয়াতির অভিযোগ সত্য বলে প্রমাণিত হওয়ার পর, ডেপুটি কমিশনার অভিযুক্ত সমস্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার সুনির্দিষ্ট সুপারিশ সহ সমগ্র প্রতিবেদনটি রাজ্য সরকারের কাছে পাঠিয়ে দিয়েছেন।
তবে প্রশাসনের এই পদক্ষেপেও পুরোপুরি সন্তুষ্ট হতে পারেননি অভিযোগকারী ও বিশিষ্ট সমাজকর্মী আমির মোহাম্মদ সাদিক। তাঁর দাবি, ডেপুটি কমিশনারের এই পদক্ষেপ প্রয়োজনের তুলনায় অনেকটাই অপ্রতুল। তিনি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে অভিযোগ করেছেন যে, ডেপুটি কমিশনার চাইলে নিজের ক্ষমতার পরিধির মধ্যে থেকেই অভিযুক্ত অন্যান্য দোষী কর্মকর্তাদের সাময়িকভাবে বরখাস্ত করতে পারতেন এবং তাদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিকভাবে ফৌজদারি মামলা দায়ের করা উচিত ছিল। তাঁর মতে, ১০০ কোটি টাকারও বেশি মূল্যের সরকারি হ্রদের জমি ব্যক্তিগত ব্যক্তির কাছে বেআইনিভাবে হস্তান্তরের মতো গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রে সরকারের কাছে কেবল সুপারিশ পাঠানোই যথেষ্ট নয়। দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে তিনি খুব শীঘ্রই কর্ণাটক হাইকোর্টে একটি জোরালো জনস্বার্থ মামলা (PIL) দায়ের করার হুংকার দিয়েছেন।
এদিকে, এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার জেরে স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও সচেতন মহলের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন যে, জাল নথির মাধ্যমে সরকারি হ্রদের মতো গুরুত্বপূর্ণ ভূসম্পত্তি ব্যক্তিগত মালিকানায় হস্তান্তরের এই ঘটনা সাম্প্রতিককালের অন্যতম বড় দুর্নীতির নিদর্শন। তারা জোরালো দাবি তুলেছেন যে, নিরপেক্ষ তদন্তে যারা যারা দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন, রাজ্য সরকার যেন বিন্দুমাত্র সময় নষ্ট না করে তাদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে কঠোরতম শাস্তি নিশ্চিত করে এবং বেদখল হওয়া অমূল্য সরকারি জমিটি দ্রুত উদ্ধার করে সুরক্ষিত করে।