বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোটগ্রহণের মাত্র ৪৮ ঘণ্টা আগে পশ্চিম বর্ধমানের কুলটিতে দাঁড়িয়ে তৃণমূলের “সিন্দুকে” শেষ পেরেক পুঁততে চাইলেন অমিত শাহ। এ দিন তাঁর ভাষণের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল তৃণমূলের তথাকথিত ‘পরিবারতন্ত্র’ এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উত্তরসূরি হওয়ার জল্পনা।
“মুখ্যমন্ত্রী হবে ভূমিপুত্রই”
তৃণমূলের ‘বহিরাগত’ তত্ত্বের পাল্টা জবাব দিয়ে অমিত শাহ এ দিন স্পষ্ট জানিয়ে দেন, বিজেপি যদি ক্ষমতায় আসে তবে বাংলার পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হবে এই মাটিরই কোনো সন্তান। তিনি বলেন, “মমতা দিদি চান তাঁর ভাইপোকে মুখ্যমন্ত্রী করতে। কিন্তু আমি কথা দিচ্ছি, বিজেপি ক্ষমতায় এলে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী হবে কোনো এক বাঙালি ভূমিপুত্র।”
অভিষেক ইস্যুতে আক্রমণ
অমিত শাহ অভিযোগ করেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যের উন্নয়নের চেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তাঁর ভাইপোকে রাজনৈতিকভাবে প্রতিষ্ঠা করতে। তিনি বলেন:
পরিবারতন্ত্রের অবসান: শাহের দাবি, বাংলা এখন ‘বুয়া-ভাতিজা’র শাসন থেকে মুক্তি চায়।
দুর্নীতির অভিযোগ: সিন্ডিকেট রাজ ও তোলাবাজির টাকা শেষ পর্যন্ত কোথায় পৌঁছায়, তা নিয়ে নাম না করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ইঙ্গিত করেন তিনি।
প্রতিশ্রুতি ও হুঁশিয়ারি
এ দিনের সভা থেকে অমিত শাহ একাধিক বড় প্রতিশ্রুতি দেন:
UCC-র প্রয়োগ: বিজেপি ক্ষমতায় এলে বাংলায় অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (UCC) চালু করা হবে।
সংশোধিত বেতন: জুন মাস থেকেই ৩০০০ টাকা করে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের সমপরিমাণ অর্থ এবং বেকারদের জন্য ভাতার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
অনুপ্রবেশ মুক্ত বাংলা: “২৩ তারিখ পদ্ম চিহ্নে ভোট দিন, ৫ মে বিজেপি সরকার গড়ুন— আমরা প্রত্যেক অনুপ্রবেশকারীকে বেছে বেছে বের করব,” হুঁশিয়ারি শাহের।
তৃণমূলের পাল্টা জবাব
অমিত শাহের এই বক্তব্যের পরই তৃণমূলের পক্ষ থেকে পালটা প্রতিক্রিয়া দেওয়া হয়েছে। জোড়াফুল শিবিরের দাবি, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় মানুষের রায়ে নেতা হয়েছেন, দিল্লির দয়ায় নয়। শাহের এই আক্রমণকে ‘ভীতি’ হিসেবেই দেখছে ঘাসফুল শিবির।





