দক্ষিণ দিল্লির কৈলাশ হিলসে ইন্ডিয়ান রেভিনিউ সার্ভিস (IRS) অফিসারের ২২ বছর বয়সী মেয়েকে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া প্রাক্তন পরিচারক রাহুল মিনার জবানবন্দিতে স্তম্ভিত দুঁদে পুলিশ আধিকারিকরাও। ধৃতের মধ্যে কোনো অনুশোচনা তো নেই-ই, উল্টে সে নির্লিপ্তভাবে জানিয়েছে, ‘দিদি যদি টাকা দিত, তাহলে এমন ঘটত না’। তদন্তে উঠে এসেছে আরও ভয়ঙ্কর তথ্য— দিল্লির এই নৃশংস ঘটনার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগেই রাজস্থানের আলওয়ারে আরও এক মহিলাকে যৌন নির্যাতন করেছিল এই যুবক।
পুলিশ জানিয়েছে, রাহুল আলওয়ারে অপরাধ করে পরের দিন সকালে দিল্লিতে আসে। ডুপ্লিকেট চাবি ব্যবহার করে সে তার প্রাক্তন মালিকের বাড়িতে ঢোকে এবং সোজা ছাদের স্টাডি রুমে চলে যায়। সেখানে মোবাইল চার্জারের তার দিয়ে তরুণীর গলা পেঁচিয়ে তাঁকে নিস্তেজ করে দেয়। এরপর অচৈতন্য অবস্থাতেই তরুণীকে ধর্ষণ করে সে। এখানেই শেষ নয়, লুটপাটের উদ্দেশ্যে সে রক্তাক্ত তরুণীকে টেনে-হিঁচড়ে অন্য ঘরে নিয়ে যায় এবং লকার খোলার জন্য অচৈতন্য তরুণীর আঙুলের ছাপ (Biometric) ব্যবহার করার চেষ্টা করে। যদিও লকারটি খুলতে ব্যর্থ হয় সে।
ময়নাতদন্তের রিপোর্ট বলছে, আমলা-কন্যার ওপর অমানুষিক অত্যাচার চালানো হয়েছে। ভারী ও ভোঁতা কিছু দিয়ে তাঁর মুখে আঘাত করায় নাকের হাড় ভেঙে গিয়েছিল। আত্মরক্ষার জন্য তরুণী ধস্তাধস্তি করায় তাঁর হাত-পায়ের চামড়া উঠে গিয়েছিল। রিপোর্টে ঘাড়ের পেশি ছিঁড়ে যাওয়া এবং হাড় ভেঙে যাওয়ার প্রমাণ মিলেছে, যা থেকে স্পষ্ট যে কতটা পৈশাচিকভাবে শ্বাসরোধ করে তাঁকে হত্যা করা হয়েছে। বর্তমানে অভিযুক্ত রাহুল পুলিশের হেফাজতে রয়েছে।





