দিঘায় বারবার দুর্ঘটনা, তবুও টনক নড়ছে না? প্রাণহানির পর কড়া পদক্ষেপ জেলা প্রশাসনের

বাঙালির প্রিয় ভ্রমণকেন্দ্র দিঘায় আবারও পর্যটকের নিরাপত্তা নিয়ে বড় প্রশ্ন উঠে গেল। শনিবার সকালে দিঘা মোহানা থানা এলাকার সি-হক ঘোলাঘাটে স্পিড বোটের ধাক্কায় মৃত্যু হয়েছে পূর্ব বর্ধমানের এক যুবকের। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পরই নড়েচড়ে বসেছে পূর্ব মেদিনীপুর জেলা প্রশাসন। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত দিঘার সমুদ্রে সমস্ত ধরনের ওয়াটার স্পোর্টস (যেমন স্পিড বোট, প্যারাসেলিং, বানানা বোট) অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
কী ঘটেছিল? শনিবার সকালে সমুদ্রে স্নান করার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি স্পিড বোট সজোরে ধাক্কা দেয় শেখ বাপন নামক এক পর্যটককে। ঘটনাস্থলেই গুরুতর জখম হন তিনি। তড়িঘড়ি তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও শেষ রক্ষা হয়নি। এই ঘটনার পরই স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।
নিরাপত্তার প্রশ্নে উঠছে আঙুল দিঘায় পর্যটক বাড়ার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে দুর্ঘটনা। গত কয়েক বছরে একাধিকবার স্পিড বোটের ধাক্কায় পর্যটকরা আহত হয়েছেন। অভিযোগ, বেসরকারি সংস্থাগুলি মুনাফার লোভে পর্যটকদের ভিড়ের মধ্যেই এই রাইডগুলি চালায়, যা অত্যন্ত বিপজ্জনক। স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের মতে, প্রশাসন দুর্ঘটনার পর সাময়িক তৎপরতা দেখালেও, দীর্ঘমেয়াদী নজরদারির অভাবই বারবার এমন বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
প্রশাসনের পদক্ষেপ:
কড়া নির্দেশ: দিঘা-শঙ্করপুর উন্নয়ন পর্ষদ ও জেলা প্রশাসনের তরফে দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু হয়েছে।
FIR ও সিজ: সংশ্লিষ্ট বেসরকারি সংস্থাটির বিরুদ্ধে এফআইআর (FIR) দায়ের করা হয়েছে এবং ঘাতক স্পিড বোটটি পুলিশ সিজ করেছে।
তদন্ত কমিটি: রাইড পরিচালনার দায়িত্বে থাকা প্রতিটি সংস্থার বৈধ কাগজপত্র ও অনুমোদনের বিষয়টি খতিয়ে দেখার রিপোর্ট তলব করেছেন স্থানীয় বিধায়ক ও প্রশাসনিক কর্তারা।
বিধায়কের বার্তা: রামনগরের বিধায়ক চন্দ্রশেখর মণ্ডল জানিয়েছেন, “কোন কোন সংস্থা এই রাইডগুলির দায়িত্বে আছে, তার বিস্তারিত রিপোর্ট চাওয়া হয়েছে। অনিয়ম কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।” দিঘা-শঙ্করপুর উন্নয়ন পর্ষদের চেয়ারম্যান তথা জেলাশাসক নিরঞ্জন কুমার স্পষ্ট করেছেন, সমস্ত নিরাপত্তা বিধি পুনরায় যাচাই না করা পর্যন্ত দিঘায় কোনো ওয়াটার রাইড চালু করার অনুমতি দেওয়া হবে না।
সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দিঘাকে আরও সুন্দর ও পর্যটকবান্ধব করে তোলার লক্ষ্যে একাধিক বৈঠক করেছেন। সেই প্রেক্ষিতেই পর্যটকদের নিরাপত্তাকে এবার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে চলেছে প্রশাসন। এখন দেখার, এই কঠোর সিদ্ধান্তের পর দিঘার সমুদ্রে পর্যটকদের নিরাপত্তা আদৌ কতটা নিশ্চিত হয়।