দিঘায় এক কেজি ইলিশ ২০০০ টাকা! আকাশছোঁয়া দামের বাজারেও ট্রলার মালিকদের মুখে হতাশার ছাপ, কারণ কী?

নিম্নচাপ ও দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কবলে পড়ে পূর্ব মেদিনীপুরের মৎস্যজীবীদের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। দিঘা মোহনা, শঙ্করপুর, তাজপুর, পেটুয়াঘাট—উপকূলের প্রায় সব জায়গাতেই সামুদ্রিক মাছের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে, অথচ ট্রলার মালিকদের ঘরে লাভের মুখ দেখা যাচ্ছে না।

বর্তমানে দিঘা মোহনায় এক কেজি ওজনের ইলিশ কিনতে ক্রেতাদের দিতে হচ্ছে দু’হাজার টাকারও বেশি। রুলি, ভোলা ভেটকি, চিংড়িসহ প্রায় সব ধরনের সামুদ্রিক মাছের দাম বেড়েছে প্রায় দ্বিগুণ। বাজারে সামুদ্রিক মাছের তীব্র ঘাটতির কারণেই এই মূল্যবৃদ্ধি।

তবে এই চড়া দামের সুবিধা পাচ্ছেন না ট্রলার মালিকরা। একের পর এক নিম্নচাপের কারণে বারবার সমুদ্রে মাছ ধরতে যাওয়া সম্ভব হয়নি। বহু টাকা খরচ করে সমুদ্রে পাড়ি দিলেও মাছ না পেয়ে মাঝপথ থেকেই ফিরতে হয়েছে বহু ট্রলারকে। ট্রলার মালিকদের বক্তব্য, প্রতিবার সমুদ্রে নামতে জ্বালানি তেল, বরফ, খাবার এবং শ্রমিক মজুরির পেছনে হাজার হাজার টাকা খরচ হচ্ছে, কিন্তু মাঝপথে ফিরতে হওয়ায় সেই খরচের সামান্য অংশও ওঠেনি। এক ট্রলার মালিক জানান, “প্রতি ট্রিপে হাজার হাজার টাকা খরচ হয়। বারবার ফিরে আসায় ধার শোধ করা দায়। এই বছর আমরা প্রায় সর্বস্বান্ত।” মৎস্যজীবীদেরও মাসিক আয় অর্ধেকের বেশি কমে গেছে।

অন্যদিকে, মাছের জোগান কমে যাওয়ায় ব্যবসায়ীরা হিমঘরের মাছও চড়া দামে বিক্রি করছেন। এতে ক্ষুব্ধ ক্রেতারা, যদিও ব্যবসায়ীদের দাবি, জোগান না থাকলে দাম কমানো সম্ভব নয়। সব মিলিয়ে, নিম্নচাপের কোপে শুধু মৎস্যজীবীদের জীবিকাই নয়, গোটা সামুদ্রিক মাছের বাজার ব্যবস্থাই এই বছর বিপর্যস্ত।