বিশ্বভারতীতে প্রথম বাণিজ্য সম্মেলন! টাটা-রিলায়েন্সের ভিড়, চিনের কনসুলেটও দিচ্ছে আর্থিক মদত, কী অপেক্ষা করছে পড়ুয়াদের?

ইউনেস্কো ‘ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ’ তকমা পাওয়া বিশ্বভারতীতে প্রথমবারের মতো আয়োজিত হলো আন্তর্জাতিক স্তরের ‘বাণিজ্য-শিক্ষা সম্মেলন’। রিলায়েন্স, টাটা, আইটিসি, আইবিএম সহ প্রায় ৭৫টি ছোট-বড় বহুজাতিক সংস্থা এই সম্মেলনে যোগ দিয়েছে। শুধু দেশীয় নয়, আর্থিক অনুদান দিয়ে সহযোগিতা করছে পাঁচটি ব্যাংক এবং চিনের কনসুলেট।

বৃহস্পতিবার সম্মেলনের উদ্বোধনে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রকের রাষ্ট্রমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার কলকাতা স্থিত চিনের কনসাল জেনারেল স্কু উই-কে সংবর্ধনা জানান। তিনি এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, “এটা খুব ভালো উদ্যোগ। এত বড় বড় কোম্পানি এসেছে, ভবিষ্যতে পড়ুয়া ও বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক উপকার হবে। নতুন প্রতিভা খুঁজে পাওয়া যাবে, কর্মসংস্থান হবে। গুরুদেব রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিশ্বভারতী আমাদের গর্ব, তাই এর উন্নতি আমাদের লক্ষ্য।”

এর আগে, বিশ্বভারতীর উপাচার্য প্রবীর কুমার ঘোষ জানান, এই সম্মেলন থেকে পড়ুয়াদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে এবং কবির বিশ্বভারতীতে বিনিয়োগ আসার সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, বিশ্বভারতী ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ তকমা ধরে রাখতে চায়, এক্ষেত্রে কোনো কোম্পানির সহযোগিতা সুবিধা দেবে। পাশাপাশি, বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতাল, শিল্প, নৃত্য, গীত, কলা ইত্যাদি ক্ষেত্রে কর্পোরেট প্রোমোশন ও বিনিয়োগের বহুবিধ উপকারিতা রয়েছে।

৬ ও ৭ নভেম্বর, দুই দিনব্যাপী এই সম্মেলন বিশ্বভারতীর লিপিকা প্রেক্ষাগৃহে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। নয়টি কোম্পানি, যার মধ্যে স্টেট ব্যাংক, কানাড়া ব্যাংক, এইচডিএফসি, অ্যাক্সিস এবং বন্ধন ব্যাংক সহ বেলজিয়ামের জিঙ্ক অ্যাসোসিয়েট (IUA) ও হুর্লও রয়েছে, আর্থিক অনুদান দিয়ে সহযোগিতা করছে। সম্মেলনে টাটা, রিলায়েন্স, আইটিসি, আইবিএম-এর মতো বৃহৎ সংস্থা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সংক্রান্ত দুটি কোম্পানিও অংশ নিয়েছে।

সম্মেলনের সূচনা করেন কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার, কেন্দ্রীয় উচ্চশিক্ষা দফতরের চেয়ারম্যান টিজি সীতারাম, সচিব বিনীত জোসি, বন্ধন ব্যাংকের কর্ণধার চন্দ্রশেখর ঘোষ এবং চিনের কনসাল জেনারেল স্কু উই। কলাভবন, শিল্পসদন, বিজ্ঞান বিভাগ সহ একাধিক বিভাগের পড়ুয়ারা এতে অংশ নিয়েছেন এবং সঙ্গীতভবনের পড়ুয়ারা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে পরিবেশনা করেন।

বর্তমানে বিশ্বভারতীর শিক্ষার্থী সংখ্যা ১০,৮৪৭। এই সম্মেলন থেকে শিল্প, কলা, বিজ্ঞান সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে কোম্পানির কাছ থেকে বিনিয়োগ ও আর্থিক অনুদান আসার সম্ভাবনা রয়েছে এবং শিক্ষার্থীদের জন্য সরাসরি কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে, যেখানে শীর্ষকর্তারা পড়ুয়াদের সঙ্গে আলোচনা করবেন।