আপনার পছন্দের গাড়িটি কি আর নিরাপদ নয়? হ্যাকারদের ভয়ঙ্কর থাবায় কাঁপছে মারুতি-সহ তাবড় অটো সংস্থা!

বিশ্বজুড়ে যখন অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার মেঘ ঘনীভূত হচ্ছে, ঠিক তখনই ভারতের বৃহত্তম গাড়ি প্রস্তুতকারক সংস্থা মারুতি সুজুকির ম্যানেজিং ডিরেক্টর এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (CEO) হিসাশি তাকেউচি দেশের অটোমোবাইল শিল্পের সামনে এক নতুন ও মারাত্মক বিপদের ঘণ্টা বাজিয়েছেন। সম্প্রতি এক উচ্চপর্যায়ের শিল্প সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি অত্যন্ত জোরালোভাবে সতর্ক করে বলেছেন যে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে বিশ্বের কুখ্যাত হ্যাকার গোষ্ঠীগুলি আরও অনেক বেশি বিপজ্জনক ও অত্যাধুনিক হয়ে উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে দেশের অটোমোবাইল প্রস্তুতকারক সংস্থাগুলিকে সাইবার নিরাপত্তার ক্ষেত্রে যেকোনো মূল্যে হ্যাকারদের চেয়ে সবসময় এক কদম এগিয়ে থাকতে হবে, নতুবা যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখোমুখি হতে হতে পারে।
হিসাশি তাকেউচির এই সতর্কবার্তাকে কোনোভাবেই লঘু করে দেখার উপায় নেই, কারণ সম্প্রতি বিশ্বখ্যাত অটোমোবাইল ব্র্যান্ড জাগুয়ার ল্যান্ড রোভার (JLR) এবং সুজুকি মোটরসাইকেল ইন্ডিয়ার মতো বড় বড় বহুজাতিক কর্পোরেট সংস্থায় ঘটে যাওয়া একের পর এক সাইবার হানার ঘটনাগুলি এই আশঙ্কার সত্যতা পরিষ্কার প্রমাণ করে দিয়েছে। আধুনিক যুগে আধুনিক গাড়িগুলিতে হ্যাকিংয়ের ঝুঁকি আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে, কারণ বর্তমানে গাড়িগুলিতে প্রচুর পরিমাণে উন্নত সফটওয়্যার, ক্লাউড কানেক্টিভিটি এবং স্বয়ংক্রিয় নেভিগেশন সিস্টেম ব্যবহার করা হচ্ছে। হ্যাকাররা এই ডিজিটাল দুর্বলতাগুলিকে কাজে লাগিয়ে যেকোনো সময় গ্রাহকদের ব্যক্তিগত তথ্য হাতিয়ে নেওয়া থেকে শুরু করে আস্ত একটি উৎপাদন কারখানার ডিজিটাল নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে নিয়ে নিতে পারে। মারুতি প্রধান স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন যে, ভারতের অটোমোবাইল শিল্প এখন ডিজিটাল রূপান্তরের এক অত্যন্ত সংবেদনশীল ও জটিল সময়ের মধ্য দিয়ে এগোচ্ছে। তাই গাড়ির উৎপাদন প্রক্রিয়া থেকে শুরু করে সাপ্লাই চেইন নেটওয়ার্ক—সর্বত্র সর্বোচ্চ স্তরের সাইবার নিরাপত্তা বেষ্টনী গড়ে তোলা এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি।