“দায় এড়িয়ে পালানো যাবে না!” নির্বাচন কমিশনের হুঙ্কারের পরেই নবান্নে ভার্চুয়াল বৈঠক, কোন কোন প্রকল্পে জোর?

রাজ্য রাজনীতিতে এখন টানটান উত্তেজনা। গতকাল দিল্লিতে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চের সঙ্গে ম্যারাথন বৈঠকের পর কলকাতায় ফিরেই চরম তৎপরতা শুরু করলেন রাজ্যের মুখ্য সচিব নন্দিনী চক্রবর্তী। আজ, শনিবার সকাল ১১টা থেকে রাজ্যের সমস্ত জেলাশাসকদের (DM) নিয়ে এক জরুরি ভার্চুয়াল বৈঠকে বসছেন তিনি।

নবান্ন সূত্রে খবর, এই বৈঠকে মূলত ‘যুব সাথী’-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাজ্য সরকারি প্রকল্পের অগ্রগতি ও রূপায়ণ নিয়ে আলোচনা হবে। তবে রাজনৈতিক মহলের মতে, তড়িঘড়ি এই বৈঠকের নেপথ্যে রয়েছে কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের দেওয়া কড়া হুঁশিয়ারি।

কেন এই জরুরি বৈঠক? চর্চায় নবান্ন
গতকাল শুক্রবার দিল্লিতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার রাজ্যের মুখ্য সচিব এবং জেলাশাসকদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন। সেই বৈঠকেই নথি যাচাইয়ের ক্ষেত্রে জেলাস্তরের একাধিক গাফিলতি নিয়ে তীব্র উষ্মা প্রকাশ করে কমিশন। সূত্রের খবর, বিশেষ করে উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলাশাসকদের নথিতে ভুল ও অপ্রাসঙ্গিক ডাটা আপলোডিং নিয়ে সতর্ক করা হয়েছে।

কমিশনের কড়া বার্তা: “আপনারা ভাববেন না যে দায় এড়িয়ে পালিয়ে যেতে পারবেন। এখন না হলেও আগামী দু’বছর পরেও কমিশন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে পারে।”

নথিতে চরম গাফিলতি: কী অভিযোগ কমিশনের?
কমিশন সূত্রে জানা গেছে, নথিপত্র যাচাইয়ের ক্ষেত্রে বেশ কিছু হাস্যকর ও গুরুতর অভিযোগ সামনে এসেছে:

ফাঁকা কাগজ জমা: পাসপোর্টের পরিবর্তে সাদা কাগজ আপলোড করা হয়েছে।

সংবাদপত্রের কাটিং: পরিচয়পত্র বা ঠিকানার প্রমাণের জায়গায় সংবাদপত্রের কাটিং ডকুমেন্ট হিসেবে আপলোড করা হয়েছে।

ভুল ডাটা: নির্বাচন সংক্রান্ত পোর্টালগুলোতে ভুল ও অপ্রাসঙ্গিক তথ্য আপলোডের অভিযোগ উঠেছে।

আজকের বৈঠকের মূল এজেন্ডা
নবান্ন সূত্রে জানা গেছে, আজকের এই ভার্চুয়াল বৈঠকে মুখ্য সচিব জেলাশাসকদের স্পষ্ট নির্দেশ দেবেন যাতে প্রকল্পের সুবিধা দেওয়ার ক্ষেত্রে এবং নির্বাচন সংক্রান্ত কাজকর্মে কোনওরকম প্রশাসনিক গাফিলতি না থাকে। বিশেষ করে ‘যুব সাথী’ প্রকল্পের বর্তমান অবস্থা এবং এর স্বচ্ছতা নিয়ে আলোচনা হতে পারে।

দিল্লি থেকে ফেরার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মুখ্য সচিবের এই ‘অ্যাকশন মোড’ এখন নবান্নের অলিন্দে জোর চর্চার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy