দামোদর নদ থেকে ঘট উত্তোলন, কাঁধে করে প্রতিমা বিসর্জন! পূর্ব বর্ধমানের এই ঘোষ বাড়ির পুজোর কথা জানেন কি?

প্রায় ৪০০ বছরের ঐতিহ্য বহন করে চলেছে পূর্ব বর্ধমানের ইদিলপুরের ঘোষ পরিবারের দুর্গাপূজা। আজ থেকে ৪০০ বছর আগে তিলকরাম ঘোষ ও উমাচরণ ঘোষ স্বপ্নাদেশ পেয়ে এই পুজোর সূচনা করেছিলেন। সেই থেকে আজও একই কাঠামোতে দেবীর প্রতিমা তৈরি হয়, যদিও কাঠামোটি প্রতি বছর মেরামত করা হয়।
৪০০ বছরের ঐতিহ্য
এই পুজোর প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো হলো:
একই কাঠামো: গত ৪০০ বছর ধরে দেবীর মূর্তি একই কাঠামোয় তৈরি করা হয়। প্রতিমা বিসর্জনের পর সেই কাঠামো কাঁধে করে তুলে এনে মন্দিরে রাখা হয়।
দামোদর নদের ভূমিকা: প্রতি বছর দামোদর নদ থেকে ঘট উত্তোলনের মাধ্যমে পুজোর সূচনা হয় এবং বিসর্জনও হয় দামোদর নদেই।
বংশ পরম্পরার ঢাকি: বংশ পরম্পরায় একই পরিবারের সদস্যরা এই পুজোর ঢাক বাজিয়ে থাকেন।
বলির প্রথা: এই পুজোয় আজও বলি প্রথা প্রচলিত আছে। সপ্তমী ও অষ্টমীতে ছাগ বলি এবং নবমীতে মোষ, ছাগ, ভেড়া, ছাঁচি কুমড়ো ও আঁখ বলির প্রথা রয়েছে।
পরিবারের সদস্যা গীতা ঘোষ জানান, একসময় বলি প্রথা বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, কিন্তু দেবীর স্বপ্নাদেশ পেয়ে তা আর বন্ধ করা হয়নি। এই পুজোয় দেবীকে অন্ন ভোগ দেওয়া হয় না, বরং ভোগ হিসেবে লুচি ও বিভিন্ন ধরনের পদ দেওয়া হয়। সারাবছর শনি ও মঙ্গলবারে দেবীর পূজা করা হয় এবং রথের দিন থেকে প্রতিমা গড়ার কাজ শুরু হয়।
ঘোষ পরিবারের কাছে এই দুর্গাপূজা শুধু একটি উৎসব নয়, এটি পারিবারিক বন্ধনের এক অনন্য মাধ্যম। সারা বছর বাইরে থাকা পরিবারের সদস্যরা পুজোর সময় একজোট হন এবং একসঙ্গে খাওয়া-দাওয়া ও আনন্দে মেতে ওঠেন।