‘দাবাং ২’-এর সুপারহিট ভোজপুরি গান! এর আসল জন্মস্থান বিহার নয়, জানলে অবাক হবেন!

সালমান খানের ‘দাবাং ২’ সিনেমার সেই বিখ্যাত ভোজপুরি গান ‘ফুলাউরি বিনা চাটনি ক্যায়সে বনি’ শুনেছেন নিশ্চয়ই? আজও বিয়ের আসর থেকে উৎসবের ভিড়—গানটি সবখানেই হিট। কিন্তু আপনি কি জানেন, এই গানের সঙ্গে বিহারের কোনো ভৌগোলিক বা সাংস্কৃতিক যোগসূত্র নেই? বরং এর উৎপত্তি এক বিষাদময় অথচ সংগ্রামের ইতিহাসে।

গিরমিটিয়া শ্রমিকদের সংগ্রামের ফসল: এই গানের উৎস খুঁজতে হলে আমাদের ফিরে যেতে হবে ১৮৩৩ সালে। ব্রিটিশ আমলে বিহার ও উত্তরপ্রদেশের অবধ অঞ্চল থেকে বহু দরিদ্র কৃষককে ‘গিরমিট’ বা চুক্তিপত্রের মাধ্যমে ক্যারিবীয় দেশগুলোতে (ত্রিনিদাদ ও টোবাগো, গায়ানা, সুরিনাম) পাঠানো হয়েছিল। এই শ্রমিকরাই পরিচিত ছিলেন ‘গিরমিটিয়া’ নামে। সাত সমুদ্র পাড়ি দিয়ে আখক্ষেতে হাড়ভাঙা খাটুনির পর সন্ধ্যায় জন্মভূমির স্মৃতিচারণই ছিল তাঁদের একমাত্র আশ্রয়। এই দীর্ঘশ্বাসের সুর আর লোকসংগীতের মিশ্রণেই জন্ম নেয় এক নতুন সংগীতধারা—‘চাটনি মিউজিক’।

সুন্দর পোপো ও গানের জনপ্রিয়তা: ৭০-এর দশকে ত্রিনিদাদের প্রখ্যাত শিল্পী সুন্দর পোপো প্রথম এই ধারার আধুনিকায়ন করেন। মূলত স্থানীয় ‘সোকা’ ও ‘ক্যালিপসো’ সংগীতের সঙ্গে ভোজপুরি ভাষার মিশেল ঘটিয়ে ১৯৭০ সালে তিনি প্রকাশ করেন ‘ফুলাউরি বিনা চাটনি ক্যায়সে বনি’। ভোজপুরি ‘ফুলাউরি’ (এক ধরনের বড়া) এবং চাটনির উপমায় গড়া এই গানটি সেখানে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। পরে কল্পনা পাটোয়ারীর কণ্ঠে তা ভোজপুরি হয়ে বলিউডের পর্দায় জায়গা করে নেয়।

সংস্কৃতির মেলবন্ধন: এই গানটি কেবল একটি বিনোদন নয়, বরং এটি অভিবাসী ভারতীয়দের লড়াই, ঐতিহ্য ধরে রাখার চেষ্টা এবং ভাষার বিবর্তনের এক জলজ্যান্ত দলিল। ভোজপুরি শব্দের সঙ্গে ইংরেজি ও স্থানীয় সুরের এই সংমিশ্রণ আজও বিশ্বজুড়ে সংগীতপ্রেমীদের মুগ্ধ করে।

পরের বার যখন গানটি শুনবেন, তখন শুধু সুর নয়, মনে করবেন সেই সব শ্রমিকদের কথা, যাঁরা শত প্রতিকূলতার মধ্যেও নিজের শেকড়কে বিদেশের মাটিতে বাঁচিয়ে রেখেছিলেন।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy