‘দলেই জায়গা পাচ্ছিলাম না, ছাড়ার কথা ভাবছিলাম!’,ফের আলোচনার কেন্দ্রে দিলীপ ঘোষ

বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি, কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি এবং মেদিনীপুরের প্রাক্তন সাংসদ দিলীপ ঘোষ আবারও রাজ্য রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছেন। একসময় যিনি দলে অত্যন্ত শক্তিশালী অবস্থানে ছিলেন, আজ তাঁর দলের ভেতরের অবস্থান নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে। সম্প্রতি তাঁর দিল্লি যাত্রা এবং ফেরার টিকিট না কাটার বিষয়টি রাজনৈতিক মহলে নতুন জল্পনার জন্ম দিয়েছে।

দিলীপ ঘোষ আগেও অভিযোগ করেছেন যে, দল তাঁকে ধীরে ধীরে কোণঠাসা করে ফেলেছে। রাজ্যের রাজনীতিতে বিজেপির উত্থানের সময় তিনিই ছিলেন প্রধান মুখ। রাস্তায় নেমে লড়াই, জেলা সফর, সংগঠনকে মজবুত করা – সবক্ষেত্রেই দিলীপ ঘোষের ভূমিকা ছিল অনস্বীকার্য। কিন্তু ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকে পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করে, এবং তাঁর প্রতি দলের ব্যবহারে এক ধরনের উদাসীনতা দেখা যায়।

দলেই যেন ব্রাত্য
দিলীপ ঘোষ নিজেই সম্প্রতি এক বিস্ফোরক মন্তব্য করে তাঁর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন: “পার্টির মিটিং-এ আমাকে চেয়ারই দেওয়া হত না।” দীর্ঘদিন দলের অন্যতম মুখ হিসেবে কাজ করলেও, এখন তাঁকে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠান থেকে দূরে রাখা হচ্ছে। যেমন, সম্প্রতি রাজ্য সভাপতি হিসেবে শমীক ভট্টাচার্যের সম্বর্ধনা সভায় দিলীপ ঘোষকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। এই বিষয়টি নিয়ে তিনি স্পষ্ট বলেছেন, “এমন আরও অনেক ঘটনা আছে।”

তাঁর বক্তব্য থেকে স্পষ্ট যে, দল থেকে তাঁকে দূরে সরিয়ে রাখার প্রয়াস একদিন-দু’দিনের নয়। তবে এতেও তিনি দল ছেড়ে যাওয়ার কথা ভাবেননি। দিলীপ ঘোষ দৃঢ়ভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, “আমি পার্টি ছাড়িনি, ছাড়ার কথাও বলিনি। অনেকে চেয়েছিল আমি দল ছাড়ি, কিন্তু আমি ছাড়িনি। যে পার্টিকে দাঁড় করিয়েছে, সে পার্টি ছেড়ে যাবে কেন?”

দলবদলের জল্পনা এবং নিজের অবস্থান
২১ জুলাই সম্পর্কে একটি বিতর্কিত মন্তব্য করে সম্প্রতি রাজনৈতিক মহলে জল্পনা বাড়িয়েছিলেন দিলীপ ঘোষ। অনেকেই ভেবেছিলেন, হয়তো তিনি তৃণমূল ঘনিষ্ঠ হচ্ছেন কিংবা অন্য কোনো রাজনৈতিক দলে যোগ দিতে পারেন। যদিও দিল্লিতে গিয়ে নিজের বক্তব্যে তিনি সেই জল্পনাকেও কিছুটা খণ্ডন করেছেন। তাঁর দাবি, তিনি দলের জন্য কাজ করেছেন এবং এখনও করেন। তবে, দলীয় সিদ্ধান্তের কারণে যে তাঁর রাজনৈতিক ক্ষতি হয়েছে, সেটাও তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন।

মেদিনীপুরের মতো বিজেপির শক্ত ঘাঁটি ছেড়ে তাঁকে বর্ধমান থেকে লড়তে পাঠানো হয়েছিল, যেখানে তিনি হেরে যান। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “দল বলেছিল, তাই করেছিলাম। তাতে কী লাভ-ক্ষতি হয়েছে, তা দলের ভাবা উচিত।”

দলের অভ্যন্তরে দ্বন্দ্বের ইঙ্গিত
দিলীপ ঘোষের এই বক্তব্য থেকে বিজেপির অন্দরের অব্যক্ত দ্বন্দ্ব আবারও প্রকাশ্যে চলে এসেছে। বিশেষ করে যারা একসময় তাঁর পাশে ছিলেন, তাঁদের অনেকেই এখন রাজ্য নেতৃত্বে ক্ষমতাশালী। কিন্তু দিলীপ ঘোষ বরাবরই স্পষ্টবক্তা। কোনো কিছু চেপে না রেখে দলের ভিতরের চাপানউতোর জনসমক্ষে তুলে ধরার সাহস রাখেন। এই কারণেই তাঁর আলাদা একটা অবস্থান সবসময়ই থেকেছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy