দলবদলের পরই বিরাট ধাক্কা! কোচবিহারে নিজের বাড়িতে ফিরতেই বিক্ষোভে উত্তাল তৃণমূলত্যাগী এনসিপি সাংসদ সিতাই!

দলবদলের রাজনীতি যে কতটা হিংসাত্মক ও জটিল হতে পারে, তার এক মর্মান্তিক ও চাঞ্চল্যকর চিত্র ফুটে উঠল কোচবিহারের রাজনৈতিক ময়দানে। কিছুদিন আগেই তৃণমূল কংগ্রেস ত্যাগ করে অন্য শিবিরে ভিড়েছিলেন এনসিপির হেভিওয়েট সাংসদ সিতাই। কিন্তু ঘরের ছেলে ঘরে ফিরতেই বা পুরনো দলের ছায়ায় আসতেই শুরু হয়ে গেল তীব্র জনরোষ ও রাজনৈতিক কোন্দল। সম্প্রতি নিজের এলাকায় বা কোচবিহারের নিজস্ব বাড়িতে পা রাখতেই তাঁকে ঘিরে ধরে চরম বিক্ষোভ দেখান স্থানীয় কর্মী-সমর্থক ও বিক্ষুব্ধ জনতা। পরিস্থিতি এতটাই হাতের বাইরে চলে যায় যে, উত্তেজনা প্রশমিত হওয়ার বদলে তা হিংসাত্মক রূপ নেয় এবং এলাকার একটি রাজনৈতিক পার্টি অফিসে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার মতো নৃশংস ঘটনা ঘটে।
রাজনৈতিক মহলের মতে, নির্বাচনের আগে কিংবা দলবদলের ঋতুতে দলত্যাগীদের ঘিরে ক্ষোভের আগুন যে কতটা তীব্র হতে পারে, এই ঘটনা তারই এক জলজ্যান্ত প্রমাণ। স্থানীয় সূত্রে খবর, সিতাই যখন তাঁর নিজ বাসভবনে প্রবেশ করেন, ঠিক সেই মুহূর্ত থেকেই উৎসুক ও ক্ষুব্ধ মানুষের ভিড় জমতে শুরু করে। মুহূর্তের মধ্যে সেই ভিড় বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। স্লোগান, ধস্তাধস্তি এবং উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ে গোটা এলাকা রণক্ষেত্রের রূপ নেয়। নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করলেও বিক্ষুব্ধ জনস্রোতের জেরে তা অত্যন্ত কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। এর পরেই রাতের অন্ধকারে বা প্রকাশ্যেই স্থানীয় একটি পার্টি অফিসে আগুন লাগিয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটে, যা পরিস্থিতিকে আরও বেশি জটিল ও বিপজ্জনক করে তুলেছে।
এই আকস্মিক ও সহিংস ঘটনায় কোচবিহারজুড়ে তীব্র রাজনৈতিক চাঞ্চল্য ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বিরোধী দলগুলো যেমন এই সুযোগে শাসকদল তথা দলত্যাগী সাংসদকে একহাত নিয়েছে, তেমনই তৃণমূল শিবিরের অন্দরেও এ নিয়ে শুরু হয়েছে নানা গুঞ্জন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, দলবদল বা দলবদলু নেতাদের প্রতি তৃণমূল স্তরের সাধারণ কর্মী ও সমর্থকদের যে সুপ্ত ক্ষোভ ও অভিম্মান জমে থাকে, তারই বহিঃপ্রকাশ হলো এই ধরনের গণবিক্ষোভ। ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে এবং পুরো পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে। তবে এই আকস্মিক হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় এখনও পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো হতাহতের খবর না মিললেও, রাজনৈতিক হিংসার এই সংস্কৃতি কোচবিহারের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে ফের একবার বড় প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। পুলিশ ও প্রশাসন জানিয়েছে, আগুন লাগানোর নেপথ্য কাদের হাত রয়েছে এবং কারা এই বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছে, তার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত শুরু হয়েছে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।