হাতে টাকা টিকছে না? গণেশ চতুর্থীর শুভ লগ্নে কোন বিশেষ নিয়মে পুজো করলে উপচে পড়বে ধন-সম্পদ?

সনাতন হিন্দু ধর্মে সিদ্ধিদাতা ভগবান শ্রী গণেশের পুজো ও আরাধনার গুরুত্ব অপরিসীম। যেকোনো মাঙ্গলিক কাজের সূচনা বা নতুন শুভ কাজ শুরুর আগে বিঘ্নহর্তা গণপতির আরাধনা করা আমাদের সুপ্রাচীন ঐতিহ্য। ভাদ্রপদ মাসের শুক্লপক্ষের চতুর্থী তিথিতে অত্যন্ত ধুমধাম ও ভক্তিভরে পালিত হয় শুভ গণেশ চতুর্থী। জ্যোতিষ শাস্ত্র ও শাস্ত্রীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, এই বিশেষ দিনে ভক্তদের ঘরে ঘরে আগমন ঘটে বিঘ্নবিনাশক গণপতির। সঠিক নিয়ম ও নিষ্ঠাভরে পুজো করলে জীবনে সমস্ত বাধা দূর হয় এবং সুখ-সমৃদ্ধি লাভ করা সম্ভব।

বৈদিক পঞ্জিকা ও সিদ্ধান্ত জ্যোতিষ শাস্ত্রীয় গণনা অনুযায়ী, গণেশ চতুর্থীর দিন মধ্যাহ্নকাল বা দুপুরবেলাই শ্রী গণেশের পুজো ও প্রাণপ্রতিষ্ঠার জন্য শ্রেষ্ঠ সময় বলে গণ্য করা হয়। কারণ বিশ্বাস করা হয়, ভাদ্রপদ শুক্ল চতুর্থীর মধ্যাহ্নকালেই ভগবান গণপতির জন্ম হয়েছিল। ২০২৬ সালের পঞ্জিকা মতে, চতুর্থী তিথি শুরু হচ্ছে ১৪ সেপ্টেম্বর সোমবার ভোর ৩:১২ মিনিটে এবং তিথি সমাপ্ত হবে ১৫ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার রাত ১২:০৮ মিনিটে। এই পুণ্য লগ্নে দেবীর আরাধনা ও মূর্তি স্থাপন বিশেষ ফলদায়ক।

বিশিষ্ট জ্যোতিষী রাহুল দের মতে, গণেশ শুধু আধ্যাত্মিকতার প্রতীক নন, তাঁর আরাধনায় আর্থিক সমৃদ্ধি এবং সৌভাগ্যও লাভ করা যায়। বাস্তুশাস্ত্র ও জ্যোতিষশাস্ত্র অনুসারে, এই বিশেষ দিনে কিছু নিয়ম মেনে চললে জীবনে অফুরান ধন-সম্পদ ও সুখ-শান্তি পাওয়া যায়। ভগবান গণেশের অত্যন্ত প্রিয় হলো দূর্বা ঘাস। তাই গণপতিকে দূর্বা নিবেদন করলে দারুণ ফল পাওয়া যায় ও জীবনে সুখ ভরে ওঠে। এছাড়া আর্থিক অনটন কাটাতে স্নানের পর গণেশকে গুড় ও ঘি দিয়ে ভোগ নিবেদন করে তা গোমাতাকে খাওয়ালে দ্রুত অর্থলাভের কামনা পূর্ণ হয়।

অন্যদিকে, দাম্পত্য কলহ বা স্বামী-স্ত্রীর মধ্যকার অশান্তি দূর করতেও এই দিনের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। সংসারের শান্তি ফেরাতে গণেশজিকে ১১টি দূর্বা নিবেদন করা অত্যন্ত কার্যকরী। পাশাপাশি, গণেশ চতুর্থীর দিন বিঘ্নহর্তাকে হলুদ রঙের মিষ্টি নিবেদন করলে দেবতা অত্যন্ত খুশি হন এবং ভক্তদের জীবনে সুখ-শান্তি নিয়ে আসেন। সঠিক নিয়ম ও ভক্তি সহকারে এই সামান্য আচার-অনুষ্ঠানগুলো পালন করলেই সিদ্ধিদাতার আশীর্বাদে জীবনের সমস্ত সংকট নিমেষেই কেটে যাবে এবং ঘরে আসবে দীর্ঘস্থায়ী সমৃদ্ধি।