দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ধেয়ে আসছে প্রবল কালবৈশাখী! জারি অরেঞ্জ অ্যালার্ট, বাসিন্দাদের জন্য বিশেষ সতর্কতা

দক্ষিণ ২৪ পরগনার বাসিন্দাদের জন্য অত্যন্ত জরুরি ও গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা জারি করল ভারতের আবহাওয়া দফতর (IMD)। সোমবার দুপুরে কলকাতার আঞ্চলিক আবহাওয়া কেন্দ্র থেকে প্রকাশিত সর্বশেষ বুলেটিনে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার বিস্তীর্ণ অংশের জন্য ‘কমলা সতর্কতা’ বা অরেঞ্জ অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২৯ জুন দুপুর ১২টা ২৫ মিনিট থেকে পরবর্তী ২ থেকে ৩ ঘণ্টার মধ্যে জেলার একাধিক এলাকায় মাঝারি থেকে তীব্র মাত্রার বজ্রঝড়ের সঙ্গে হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টিপাতের প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে, ঘণ্টায় প্রায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে, যা জনজীবনে বিঘ্ন ঘটাতে পারে।

আবহাওয়া দফতরের সতর্কতা অনুযায়ী, এই দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া চলাকালীন এলাকায় বজ্রপাতের ঝুঁকি অত্যন্ত বেশি। এই অবস্থায় সাধারণ মানুষকে খোলা জায়গায় অবস্থান না করার এবং অপ্রয়োজনীয় কারণে বাড়ির বাইরে না বেরোনোর কঠোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বজ্রঝড় ও বজ্রপাতের হাত থেকে বাঁচতে পাকা বা নিরাপদ বাড়ির ভেতরে আশ্রয় নেওয়ার আবেদন জানিয়েছে হাওয়া অফিস। বিশেষ করে খোলা মাঠ, বড় জলাশয়, উঁচু গাছ বা বৈদ্যুতিক খুঁটির আশেপাশে থাকা অত্যন্ত বিপজ্জনক হতে পারে। কৃষিকাজ বা বাইরের কোনো কাজে ব্যস্ত থাকলে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে আসার অনুরোধ করা হয়েছে।

কেন জারি করা হলো অরেঞ্জ অ্যালার্ট? আবহাওয়া বিজ্ঞানের পরিভাষায় ‘অরেঞ্জ অ্যালার্ট’ বা কমলা সতর্কতার অর্থ হলো পরিস্থিতির ওপর বিশেষ নজর রাখা এবং সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা। এটি মূলত আবহাওয়া পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট বিপদের মাত্রা সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে আগেভাগেই প্রস্তুত করার একটি উপায়। যদিও এটি সর্বোচ্চ পর্যায়ের সতর্কতা নয়, তবুও সম্ভাব্য বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা দুর্ঘটনা এড়াতে এই সতর্কতা মেনে চলা বাঞ্ছনীয়।

দক্ষিণ ২৪ পরগনার প্রতিটি ব্লকের বাসিন্দাদের আগামী কয়েক ঘণ্টা স্থানীয় আবহাওয়া পরিস্থিতির আপডেটের দিকে কড়া নজর রাখার অনুরোধ করা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকেও সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। কোনো জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না বের হওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ হবে। প্রশাসনের নির্দেশিকা মেনে চললে এবং সচেতন থাকলে এই সম্ভাব্য প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব। বর্তমান পরিস্থিতির দিকে আবহাওয়া দফতর সার্বক্ষণিক নজর রাখছে এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী পরবর্তী আপডেট জানানো হবে।