দক্ষিণ নারায়ণপুর বিস্ফোরণ কাণ্ডে বড় সাফল্য! অস্ত্রসহ পুলিশের জালে আরও এক অভিযুক্ত, কড়া জেরায় ফাঁস চাঞ্চল্যকর তথ্য

দক্ষিণ নারায়ণপুর বিস্ফোরণ-কাণ্ডে তদন্তের গতি তীব্রতর হতেই পুলিশের জালে ধরা পড়ল আরও এক অভিযুক্ত। এই ভয়াবহ ঘটনায় এর আগে যাঁরা গ্রেফতার হয়েছেন, তাঁদের দীর্ঘক্ষণ জেরা করে প্রাপ্ত সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে রাতভর বিশেষ অভিযান চালিয়ে নারায়ণপুর থানার পুলিশ আকবর লস্কর নামে এক দুষ্কৃতীকে গ্রেফতার করেছে। এই গোপন অপারেশন চলাকালীন ধৃতের কাছ থেকে দুটি বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র এবং চার রাউন্ড তাজা গুলি উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজই ধৃতকে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে ব্যারাকপুর আদালতে পেশ করা হবে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেটের এক উচ্চপদস্থ আধিকারিক এবিষয়ে বিস্তারিত জানিয়ে বলেন যে, দক্ষিণ নারায়ণপুর বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটার পর থেকেই অপরাধীদের চিহ্নিত করতে এবং তাদের নাগাল পেতে নারায়ণপুর থানার পুলিশ লাগাতার তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছে। পূর্বে এই ঘটনার সঙ্গে সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে যে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল, তাঁদের দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করেন চৌকস তদন্তকারীরা। জেরা চলাকালীন ধৃতরা বেশকিছু বিস্ফোরক তথ্য উগরে দেন এবং অপরাধের সঙ্গে যুক্ত একাধিক দুষ্কৃতীর নাম ও তাদের সম্ভাব্য ডেরার কথা পুলিশকে জানান। সেই প্রাপ্ত সূত্রের ওপর ভিত্তি করেই বিভিন্ন স্থানে বিশেষ নজরদারি ও সাঁড়াশি তল্লাশি অভিযান শুরু করা হয়।
ওই আধিকারিক আরও জানান যে, আগের ধৃতদের জেরা থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ওপর ভিত্তি করে গতকাল রাতে আকবর লস্কর নামে ওই দুষ্কৃতীকে প্রথমে আটক করে নারায়ণপুর থানার পুলিশ। পরবর্তীতে পুলিশি তদন্তে জানা যায় যে, এই বিস্ফোরণ-কাণ্ডে পূর্বে গ্রেফতার হওয়া অভিযুক্তদের সঙ্গে আকবরের অত্যন্ত নিয়মিত যোগাযোগ ও ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়িক বা অপরাধমূলক সখ্যতা ছিল। আকবরকে আটক করার পর স্থানীয় থানায় নিয়ে এসে রাতভর টানা জেরা শুরু করেন তদন্তকারী আধিকারিকেরা। পরবর্তীতে ধৃতকে সঙ্গে নিয়ে বিভিন্ন গোপন আস্তানায় অভিযান চালানো হয়। সেই তল্লাশি চলাকালীনই তার হেফাজত থেকে দুটি বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র এবং চার রাউন্ড তাজা কার্তুজ বাজেয়াপ্ত করে পুলিশ। অস্ত্র উদ্ধারের পরই আনুষ্ঠানিকভাবে আকবর লস্করকে গ্রেফতার দেখানো হয়।
প্রাথমিক অনুমান, ধৃতের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া এই আগ্নেয়াস্ত্র ও কার্তুজগুলি ঠিক কী উদ্দেশ্যে জমা করা হয়েছিল কিংবা এর পেছনে কোনো বড় ধরনের অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র বা নাশকতার পরিকল্পনা ছিল কি না, তা গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আজ ধৃতকে ব্যারাকপুর কোর্টে তুলে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানাবে পুলিশ, যাতে এই বিস্ফোরণ-কাণ্ড এবং অস্ত্র বেচাকেনার চক্রের সঙ্গে আর কার কার গভীর যোগ রয়েছে, তার শিকড় পর্যন্ত পৌঁছানো যায়। উল্লেখ্য, দিনকয়েক আগেই ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে রাজারহাটের দক্ষিণ নারায়ণপুরের সুপারি বাগান এলাকার একটি বাড়িতে। গভীর রাতের সেই ভয়াবহ বিস্ফোরণে একজন মারাত্মকভাবে আহত হন। ঘটনার পরই নারায়ণপুর থানার পুলিশ তৎপরতার সঙ্গে তদন্তে নেমে প্রথমে দু’জনকে এবং পরে আরও একজনকে আটক করেছিল। পরবর্তীতে বম্ব স্কোয়াড ঘটনাস্থলে গিয়ে তল্লাশি চালিয়ে আরও তাজা বোমা উদ্ধার করে। বর্তমানে এই গোটা চক্রের মূল পান্ডাদের ধরতে পুলিশি তল্লাশি জোরালোভাবে অব্যাহত রয়েছে।