বর্ষাকালীন ধান ও সবজি চাষের জন্য জমি প্রস্তুতের কাজ জোরকদমে শুরু হতেই দক্ষিণ দিনাজপুর জেলায় সারের চাহিদা আকাশ ছুঁয়েছে। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে এক শ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ী রমরমিয়ে সারের কালোবাজারি শুরু করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। কৃষকদের অভিযোগ, প্রতি কেজি সারে পাঁচ থেকে দশ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত মূল্য আদায় করা হচ্ছে, যা জেলার কৃষকদের জীবন দুর্বিষহ করে তুলেছে।
কৃষি দফতর সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে এনপিকে (১০:২৬:২৬) সারের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। প্রতি বছরই এই মরসুমে সারের দাম বৃদ্ধি পায়। তাই কৃষি দফতর কৃষকদের এনপিকে (১৫:১৫:১৫, ১৬:১৬:১৬, ১৬:২০:০:১৩) -এর মতো বিকল্প সার ব্যবহারের পরামর্শ দিচ্ছে।
জেলার কৃষকরা অভিযোগ করেছেন, সারের দাম দিনের পর দিন বেড়েই চলেছে। বিশেষত গ্রামীণ এলাকার সার ব্যবসায়ীরা প্রতি কেজিতে ৫ থেকে ১০ টাকা বেশি নিচ্ছেন। কৃষকদের দাবি, এই অতিরিক্ত মূল্য আদায়ের কারণ জানতে চাইলে কোনো সদুত্তর মেলে না, বরং প্রতিবাদ করলে উল্টো হুমকি দেওয়া হচ্ছে অথবা সার বিক্রি না করার হুমকি দেওয়া হচ্ছে।
দক্ষিণ দিনাজপুরের হিলি থেকে হরিরামপুর, কুশমন্ডি থেকে কুমারগঞ্জ – সর্বত্র একই চিত্র। সারের পর্যাপ্ত যোগান থাকা সত্ত্বেও কেন দাম বেশি নেওয়া হচ্ছে, তা কারো জানা নেই। বিগত বছরেও ঠিক একইরকমভাবে কৃত্রিম চাহিদা তৈরি করে জেলায় ব্যাপক কালোবাজারি হয়েছিল। এবারও দক্ষিণ দিনাজপুরের সার ব্যবসায়ীরা একই পথে হাঁটছে বলে অভিযোগ। কৃষকদের দাবি, সারের এই অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধি রোধ করতে প্রশাসন কোনো কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করছে না, যা তাদের হতাশ করছে। এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে আসন্ন কৃষি মরসুমে ফসল উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করছেন কৃষকরা।





