দক্ষিণবঙ্গে ফের কালবৈশাখীর দাপট! আগামী ২-৩ ঘণ্টায় কোন ৮ জেলায় ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টির সতর্কতা?

দক্ষিণবঙ্গের আকাশজুড়ে ফের দুর্যোগের কালো মেঘ। আলিপুর আবহাওয়া দপ্তরের সর্বশেষ বুলেটিন অনুযায়ী, দক্ষিণবঙ্গের সমস্ত জেলায় নতুন করে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির পূর্বাভাস জারি করা হয়েছে। আবহাওয়া দপ্তর সূত্রে খবর, আগামী ২ থেকে ৩ ঘণ্টার মধ্যে দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় আবহাওয়া পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি হতে পারে। বৃষ্টির পাশাপাশি ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার গতিবেগে দমকা ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে বলেও জানানো হয়েছে।

আবহাওয়া দপ্তর বিশেষভাবে দক্ষিণবঙ্গের ৮টি জেলাকে চিহ্নিত করে সতর্কবার্তা জারি করেছে। এই জেলাগুলিতে আগামী ২-৩ ঘণ্টার মধ্যেই বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। সেই সঙ্গে ঝোড়ো হাওয়ার দাপটে জনজীবন বিপর্যস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকছে। এই ৮টি জেলার পাশাপাশি বীরভূম ও মুর্শিদাবাদ জেলাতেও জারি করা হয়েছে হলুদ সতর্কতা। এই দুই জেলাতেও বৃষ্টির তীব্রতা ও হাওয়ার গতিবেগ একই রকম থাকবে বলে মনে করা হচ্ছে।

বজ্রপাতের বিষয়টি নিয়ে আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে বলেছে। দুর্যোগ চলাকালীন সাধারণ মানুষকে ঘরের বাইরে বেরোতে নিষেধ করা হয়েছে। খোলা মাঠ, জলাশয় কিংবা বড় গাছের নিচে আশ্রয় নেওয়া অত্যন্ত বিপজ্জনক হতে পারে। আবহাওয়া দপ্তরের পরামর্শ, ঝড়-বৃষ্টির সময় পাকা বাড়ির ভেতরে থাকাই সবচেয়ে নিরাপদ। বিদ্যুৎ চমকালে বা বজ্রপাতের সময় ইলেকট্রনিক গ্যাজেট ব্যবহার না করার জন্যও সাধারণ মানুষকে সতর্ক করা হয়েছে।

দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে গত কয়েকদিন ধরেই ভ্যাপসা গরম ও অস্বস্তিকর আবহাওয়া বজায় ছিল। হঠাৎ এই নিম্নচাপ বা আবহাওয়া পরিবর্তনের ফলে স্বস্তির বৃষ্টির আশা করলেও, বজ্রপাতের যে ঝুঁকি তৈরি হয়েছে তাতে প্রশাসনিক মহলে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে। কৃষি ক্ষেত্রেও এই ঝোড়ো হাওয়ার ফলে ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। মৎস্যজীবী এবং কৃষকদের জন্য বিশেষ সতর্কবার্তা জারি করেছে আবহাওয়া অফিস। নদী বা সমুদ্র উপকূলে থাকা মানুষদের নিরাপদ আশ্রয়ে ফেরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আবহাওয়া দপ্তরের তরফে জানানো হয়েছে, এই ঝোড়ো আবহাওয়া আগামী কয়েক ঘণ্টা অত্যন্ত সক্রিয় থাকবে। এরপর ধীরে ধীরে পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে আবহাওয়া দপ্তর সাধারণ মানুষকে নিয়মিত আপডেট দেখার পরামর্শ দিয়েছে। বজ্রপাতের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে বাঁচতে সোশ্যাল মিডিয়া এবং স্থানীয় রেডিওতে নজর রাখার অনুরোধ করা হয়েছে। দুর্যোগ মোকাবিলায় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীকেও প্রস্তুত রাখা হয়েছে। সব মিলিয়ে দক্ষিণবঙ্গজুড়ে এখন উৎকণ্ঠার পরিবেশ।