দক্ষিণবঙ্গে তৃণমূলের সুনামি? ১৪২ আসনে কি ‘গোহারা’ হারতে চলেছে বিজেপি? জল্পনা তুঙ্গে!

২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের পারদ সপ্তমে। প্রথম দফার ভোট শেষ হতেই সবার নজর এখন দ্বিতীয় দফার ১৪২টি আসনের দিকে। বিশেষ করে দক্ষিণবঙ্গের এই আসনগুলি ঘাসফুল শিবিরের দীর্ঘদিনের ‘দুর্গ’ হিসেবে পরিচিত। রাজনৈতিক মহলের জোরালো গুঞ্জন, এই দফায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেস ব্যাপক দাপট দেখাতে পারে, যা কার্যত পদ্ম শিবিরকে বড়সড় চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।

দক্ষিণবঙ্গে ঘাসফুলের একাধিপত্য? পরিসংখ্যান ও বর্তমান রাজনৈতিক সমীকরণ বলছে, কলকাতা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, উত্তর ২৪ পরগনা এবং হাওড়ার মতো জেলাগুলিতে তৃণমূলের সংগঠন অত্যন্ত শক্তিশালী। সরকারের লক্ষ্মীর ভাণ্ডার ও অন্যান্য জনমুখী প্রকল্পের প্রভাব গ্রামীণ ও শহরতলির ভোটারদের মধ্যে অটুট। বিশ্লেষকদের মতে, কলকাতার সবকটি আসনেই বিরোধীদের জন্য লড়াই কঠিন হতে চলেছে। বিশেষ করে দক্ষিণ ২৪ পরগনার সংখ্যালঘু ভোট এবং গ্রামীণ ভোটব্যাঙ্ক তৃণমূলের পাল্লা ভারী রাখছে।

কোথায় ‘গোহারা’ হারার ভয় বিজেপির? বিজেপির জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে কলকাতার পার্শ্ববর্তী এলাকা ও শিল্পাঞ্চলগুলো। গত লোকসভা নির্বাচনে এই অঞ্চলে গেরুয়া শিবির কিছুটা প্রভাব ফেললেও, বিধানসভার নিরিখে তৃণমূল তাদের জমি অনেকটাই পুনরুদ্ধার করেছে। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন:

  • কলকাতা ও হাওড়া: এখানে বিজেপির ভোটব্যাঙ্কে বড়সড় ধসের সম্ভাবনা দেখা দিচ্ছে।

  • দক্ষিণ ২৪ পরগনা: এই জেলাকে কার্যত ‘বিরোধী শূন্য’ করার লক্ষ্যে এগোচ্ছে ঘাসফুল।

  • গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ: এখানকার ১৪২টি আসনের মধ্যে বড় একটি অংশে বিজেপি যদি দ্বিতীয় স্থানেও না থাকতে পারে, তবে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।

বিজেপির পাল্টা কৌশল: তবে হাল ছাড়তে নারাজ বিজেপি নেতৃত্ব। তারা দুর্নীতি ও বেকারত্বকে হাতিয়ার করে মেরুকরণের রাজনীতি ও হিন্দু ভোটকে সংহত করার চেষ্টা করছে। কিন্তু দক্ষিণবঙ্গের শক্ত মাটিতে মমতার ‘আবেগের রাজনীতি’ ও ‘উন্নয়ন কার্ড’-কে টেক্কা দেওয়াটা পদ্ম শিবিরের কাছে বড় পরীক্ষা।

উপসংহার: শেষ পর্যন্ত কি দক্ষিণবঙ্গের এই ১৪২ আসনে ঘাসফুলের আধিপত্য কায়েম থাকবে, নাকি বিজেপি কোনো চমক দেখাবে? আগামী ২৯ এপ্রিলের ভোটগ্রহণ ও ৪ মে-র ফলাফলই বলে দেবে বাংলার মসনদ কার দখলে থাকছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy